প্রত্যাশা অনেক, গোল নেই: সিরিয়ার কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বপ্ন শেষের পথে

তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে এটি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের টানা দ্বিতীয় হার। এই পরাজয়ে টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন একপ্রকার শেষ হয়ে গেছে তাদের।

এশিয়ান কাপে যেতে হলে বাংলাদেশের যুবাদের এখন অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় থাকতে হবে। নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতকে হারানোর পাশাপাশি অন্য ম্যাচগুলোর ফলের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদেরকে। এই গ্রুপে স্বাগতিক উজবেকিস্তান ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। সমান ৩ পয়েন্ট করে অর্জন করেছে সিরিয়া ও ভারত। বাংলাদেশ এখনও খাতা খুলতে পারেনি।

এরপরও থাকবে নানা সমীকরণের মারপ্যাঁচ। কারণ, বাছাইয়ের আটটি গ্রুপের আট চ্যাম্পিয়ন ও সেরা সাত রানার্সআপ সুযোগ পাবে আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টে।

গত এপ্রিলে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে অনেক বড় প্রত্যাশা নিয়ে উজবেকিস্তানে গিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের লক্ষ্য ২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া। এই উদ্দেশ্যে ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোন্সের অধীনে যশোরে দুই মাসের লম্বা ক্যাম্প করানো হয়। দলে নেওয়া হয় প্রবাসে বেড়ে ওঠা পাঁচ তরুণ ফুটবলারকেও।

তবে সফরের ঠিক আগেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। খবর আসে, প্রধান কোচ জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এরপর দেশ ছাড়ার আগের সংবাদ সম্মেলনে কোচ বা অধিনায়ক— কেউ উপস্থিতি না থাকায় দলের ভেতরের অস্থিরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মাঠের বাইরের সেই সমস্যার প্রভাব পড়েছে মাঠের ভেতরের খেলায়। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী দারুণ কয়েকটি সেভ করলেও সেদিন প্রতিপক্ষের গোলমুখে বিবর্ণ ছিল তারা।

এরপর সিরিয়ার বিপক্ষে একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন কোচ। আলোচিত প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাসকে শুরু থেকে খেলানো হয়। কিন্তু দলের খেলায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। আক্রমণভাগে ফের নিষ্প্রভ থেকে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি জোন্সের শিষ্যরা।

ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে সতীর্থের লম্বা পাস থেকে বল পেয়ে সিরিয়াকে এগিয়ে নেন অ্যালান মামো। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শটে ব্যবধান ২-০ করেন মারিওস আলহেরেক। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করলেও ৮৯তম মিনিটে আর পারেননি রাজ। আবদুল্লাহ আল নাজারের নিচু শট আটকানো সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।

বাছাইয়ের দুই ম্যাচ খেলে পাঁচটি গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জালে এখন পর্যন্ত একটি গোলও দিতে পারেনি বাংলাদেশ। আঞ্চলিক শিরোপা জয় আর দীর্ঘ প্রস্তুতির হাঁকডাক শেষে তাই শূন্য হাতেই বিদায়ের শঙ্কায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

Related Articles

Latest Posts