একজন ফুটবলারের বিদায় কখনো কখনো কেবল একটি দলের বিদায় নয়, হয়ে ওঠে একটি পুরো জাতির আবেগের মুহূর্ত। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও যেন তেমনই এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ও একাধিক কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতা সাবেক অধিনায়ককে এবার বিশেষভাবে সম্মান জানাতে যাচ্ছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সপ্তাহান্তে আর্জেন্টিনার সব স্তরের ফুটবল ম্যাচে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। দেশটির সব বিভাগে চলা ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা এক মিনিটের জন্য থামিয়ে দেওয়া হবে। ওই সময় মাঠে থাকা দর্শক ও সংশ্লিষ্টরা দাঁড়িয়ে এক মিনিটের করতালিতে সম্মান জানাবেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে।
মেসির বিদায়ের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা অবশ্য ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বোকা জুনিয়র্স ও ভেলেসের ম্যাচে ১০ মিনিটের মাথায় খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও উঠে দাঁড়িয়ে করতালিতে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া আর্জেন্টিনার কিংবদন্তির প্রতি এটিই ছিল দেশটির ফুটবল অঙ্গনের প্রথম বড় শ্রদ্ধাঞ্জলিগুলোর একটি।
আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অবদান যে কতটা গভীর, সেটিই যেন তুলে ধরছে পুরো সপ্তাহান্তের এই আয়োজন। বছরের পর বছর জাতীয় দলের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতীক। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি একাধিক কোপা আমেরিকা শিরোপাও এনে দিয়েছেন দেশকে।
মেসির বিদায়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এত দীর্ঘ ও গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর মেসির এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা স্বাভাবিক এবং বোধগম্য।
‘রেডিও এল অবসেরভাদোর’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে, যা পরে ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ প্রকাশ করে, মিলেই বলেন, মেসি না থাকায় জাতীয় দলের সামনে বড় একটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ‘আকাশি-সাদা জার্সি আর না পরার মেসির সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য বিশাল এক ক্ষতি। তবে তার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বোধগম্য।’
মেসির অবদানের কথা স্মরণ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘সে আমাদের এত জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়ে গেছে।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি নিজেকে নিয়ে গেছেন এমন এক উচ্চতায়, যেখানে তার নামের পাশে জমেছে একের পর এক রেকর্ড। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার তিনি, একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও।
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৩ ম্যাচে মেসির গোল ১২৪টি। বিশ্বকাপেও তার যাত্রা ছিল দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক। ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ৩৪ ম্যাচে করেছেন ২১ গোল। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় একসময় তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলেছিলেন। পরে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে তাকে ছাড়িয়ে যান।
২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার অন্যতম প্রধান আলোচনায়। আসরে তিনি করেছেন আট গোল, সঙ্গে ছিল চারটি অ্যাসিস্ট। আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান তিনি।

