নেপাল-তিব্বতের বন্যায় মৃত বেড়ে ১২২৫, নিখোঁজ ৪৭৫৭

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে এক হাজার ২০৪ জন এবং তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৫৭ জন।

আজ বুধবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পর নতুন এই হিসাব প্রকাশ করা হলো।

এরই মধ্যে প্রচলিত ত্রাণ বা মানবিক সহায়তার বদলে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করছে নেপাল।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে নেপালের দায় খুবই সামান্য হলেও এর ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে দেশটিকে। তাই এটি দয়া বা দানের বিষয় নয়, বরং ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি।

নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খানাল বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান প্রায় নগণ্য। অথচ জলবায়ু সংকটের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ গলে যাওয়া, পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয় বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এই বাস্তবতায় নেপাল তার কূটনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আনছে। আগে যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ত্রাণ ও সহায়তা চাওয়া হতো, এখন সেখানে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি সামনে আনা হবে।

খানাল বলেন, নেপাল আর দাতব্য সাহায্যের জন্য হাত পাততে চায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া দেশটির আইনি ও নৈতিক অধিকার।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্যোগের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাটির নিচে চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গেও উদ্ধার অভিযান চলছে। ত্রিশূলী ৩এ, চিলিম ও আপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়াদের উদ্ধারে বিভিন্ন দেশের বিশেষায়িত দল কাজ করছে।

ভারতের বিশেষায়িত টানেল উদ্ধারকারী দল চিলিম ও লাংতাং এলাকায় কাজ করছে। চীনের একটি উদ্ধারকারী দল রয়েছে ত্রিশূলী ৩এ প্রকল্প এলাকায়। আর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি দল আপার ত্রিশূলী প্রকল্পে উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ভূমিধস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। এরপরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নেপালের কর্মকর্তারা।

একইসঙ্গে দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ইতোমধ্যে ৫ বিলিয়নের বেশি রুপি জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

Related Articles

Latest Posts