গুগল ম্যাপে লেক অন্টারিও লিখে সার্চ করলে কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ। সাপ্তাহিক ছুটির প্রথম দিন থেকেই মানুষ বিষয়টি লক্ষ্য করছেন।
সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সীমান্তে অবস্থিত ওই হ্রদের নাম বদলে লেক আমেরিকা করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে গুগল ম্যাপে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তবে আপাতত এই পরিবর্তন শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইউজারদের জন্যই প্রযোজ্য।
আজ সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।
কানাডার সঙ্গে তুমুল শুল্কযুদ্ধের মাঝে গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম বদলের নির্বাহী আদেশে সই দেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে গুগল বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভৌগোলিক তথ্যভান্ডার জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস) আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে “লেক অন্টারিও”র নাম পরিবর্তন করে “লেক আমেরিকা” করেছে।’
বিবৃতিতে গুগল ব্যাখ্যা করেছে, তারা যেকোনো ভৌগোলিক স্থাপনার নামের ক্ষেত্রে দেশটির সরকারি সূত্র ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সূত্র হলো জিএনআইএস, এবং তাদের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে গুগল ম্যাপস ব্যবহারকারীরা লেকটির নাম হিসেবে ‘লেক আমেরিকা’ দেখতে পাবেন। কানাডার ব্যবহারকারীরা ‘লেক অন্টারিও’ নামটিই দেখতে থাকবেন।
কোম্পানিটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার বাইরে থাকা ব্যবহারকারীরা হ্রদটির নাম দুইভাবেই দেখতে পাবেন। ‘লেক অন্টারিও’র পর ব্র্যাকেটের মধ্যে লেখা থাকবে ‘লেক আমেরিকা’।
গুগল বলেছে, দেশভেদে যেসব জলভাগের নাম ভিন্ন, সেগুলোর ক্ষেত্রে তাদের ‘দীর্ঘদিনের নীতি’ অনুসরণ করেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রোববার ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিবর্তন উদ্যাপন করেন।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন শোয়াং লেখেন, ‘এটি এখন আনুষ্ঠানিক! গুগল ম্যাপে নামটি এখন লেক আমেরিকা।’
ট্রাম্পও তার সামাজিক মাধ্যমে এই পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি লেখার লিংক পোস্ট করেছেন।
২০ শতকের শুরুতে কার্যকর হওয়া বাউন্ডারি ওয়াটার্স চুক্তি অনুযায়ী, লেক অন্টারিও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নিয়ন্ত্রণাধীন। যৌথ জলসীমা ব্যবহারের বিরোধ ঠেকানো ও নিষ্পত্তির জন্য এই চুক্তিতে সই দেয় ওয়াশিংটন-অটোয়া।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভৌগোলিক স্থানের নাম কীভাবে উল্লেখ করবে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও তিনি অন্য দেশগুলোকে একই নাম অনুসরণে বাধ্য করতে পারেন না।
ইতোমধ্যে কানাডার কর্মকর্তারা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দুই দেশের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদকে তার দেশ ‘চিরকাল’ লেক অন্টারিও নামেই ডাকবে।
শনিবার অন্টারিও রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) ডগ ফোর্ড আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে হ্রদটির কানাডীয় তীরে একটি সাইনবোর্ড উন্মোচন করেন।
সেখানে বড় অক্ষরে লেখা ‘লেক অন্টারিও’, তার নিচে লেখা ‘এখন এবং চিরকাল’।
পরে তিনি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
সাইনবোর্ডটির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার করা যাক: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক আগে থেকেই এই হ্রদের নাম লেক অন্টারিও। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলে যাওয়ার দীর্ঘদিন পরও এর নাম লেক অন্টারিওই থাকবে।’
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই তিনি ‘গালফ অব মেক্সিকো’র নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন।
পরে গুগলও একই ধরনের বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা নাম পরিবর্তনটি অনুসরণ করেছে।
রোববার বিকেল পর্যন্ত গুগল ম্যাপসের বিকল্প সেবা ওয়েজ ও অ্যাপল ম্যাপসে হ্রদটির নাম এখনো ‘লেক অন্টারিও’ রয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ম্যাপকোয়েস্ট ইউজারদের জানায়, ‘আমরা নাম পরিবর্তন করছি না।’

