বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বর্তমান মডেলের জটলা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে খোলামেলা হতাশা প্রকাশ করেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক তাদের দিতে না পারা, স্পন্সরদের টাকা না দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সূচিতে বিপিএলের পিছিয়ে পড়ার মতো বাস্তবতায় এবার বড় পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন তারা। আর সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে পাঁচ বছরের একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিরা। সেই বৈঠকেই বর্তমান বিপিএলের আর্থিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতাগুলো সামনে উঠে আসে।
সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য এসেছে রংপুর রাইডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেকের কাছ থেকে। যিনি আগের বোর্ডে বিসিবি পরিচালক পদেও ছিলেন। টুর্নামেন্ট শেষ হলেও বকেয়া মেটাতে না পারার অস্বস্তিকর বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারির পর প্রায় আট মাস কেটে গেল, কিন্তু আমরা এখনো কিছু দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়ের পাওনা মেটাতে পারিনি।’
স্পন্সরদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারা এবং বাজারে মন্দাভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে ইশতিয়াক বলেন, ‘নামকাওয়াস্তে একটা বিপিএল করলাম, ৩০ লাখ টাকার চুক্তি করে শেষ ১৫ লাখ আর দিলামই না, কিংবা খেলোয়াড়ের ফোন না ধরে গায়েব হয়ে গেলাম—এসবের কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে বরং কিছুটা সময় নিয়ে ভালো একটি মডেলের অধীনে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা ঢের ভালো।’
বর্তমান কাঠামোর এমন নড়বড়ে অবস্থার কারণে বিপিএলের দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সিইও মোখছেদুল কামাল বাবু। তবে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য এই সাময়িক বিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত তারা, ‘আমরা কি হতাশ? অবশ্যই হতাশ। কারণ একটা লিগের ধারাবাহিকতা থাকা খুব দরকার। বিপিএল মানে তো শুধু কয়েক দিনের মাঠের খেলা নয়, এর নেপথ্যে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অনেক কাজ থাকে।’
একই মনোভাব ঢাকা ক্যাপিটালসের সিইও আতিক ফাহাদেরও। বিপিএলের মান বাড়াতে বিসিবি সভাপতিকে সময় দিতে রাজি থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেছেন যে বিপিএল অবশ্যই হবে, তবে তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন। তামিম ভাই বিপিএলের মান বাড়াতে চান এবং একটি মজবুত মডেল দাঁড় করাতে চান। আমরাও তাঁকে সময় দেওয়ার ব্যাপারে একমত।’
এদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটাররাও বিপিএলের সার্বিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় নামছেন। বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাদের।
বিশেষ করে আগামী মৌসুমের বিপিএল না করার সিদ্ধান্ত আসার পর ক্রিকেটাররা ক্ষতির মুখে পড়বেন। এই অবস্থায় ক্রিকেটারদের অনেকে নাম প্রকাশ না করে হতাশা প্রকাশ করছেন।
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে যাওয়ার আগে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ একটি বৈঠক করবেন তারা।
দ্য ডেইলি স্টারকে মিঠুন বলেন, ‘আমি একা তো কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এইমাত্র অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে ফিরেছে। তাই রোববার সব খেলোয়াড় একত্র হয়ে আমরা নিজেরা আগে বসব, তারপর বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় যাব।’

