নেপালের বিপর্যয়ে তিন শতাধিক ভারতীয় নিখোঁজ, কৈলাসের তীর্থযাত্রী ৭৭ জন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন শতাধিক ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।

এই তথ্য জানিয়ে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নেপালের তিনটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। হিমবাহ ধসে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

ভারতীয় আধ্যাত্মিক নেতা সদগুরুর বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, বন্যার সময় নেপাল-চীন সীমান্তের অভিবাসন কার্যালয়ে প্রায় ৭৭ জন তীর্থযাত্রী ছিলেন। তারা তার প্রতিষ্ঠিত ইশা ফাউন্ডেশনের কয়েকটি হিন্দু তীর্থযাত্রী দলের সদস্য ছিলেন এবং তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বত সফর শেষে ফিরছিলেন।

সদগুরু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, বন্যার পর ওই তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। টেলিযোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ এবং সড়কগুলো অবরুদ্ধ থাকায় তাদের কাছে পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। চীনের দিক থেকে ধারণ করা নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে সীমান্তের একটি ভবনের ওপর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত আছড়ে পড়তে দেখা যায়।

সদগুরু বলেন, বন্যার স্রোতে সীমান্তের ওই ভবনটি এবং শহরের একটি অংশ ভেসে গেছে। তবে নিখোঁজদের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেছেন তিব্বতি ধর্মগুরু দালাই লামা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

দালাই লামা বলেন, অতীতেও এ অঞ্চল দুর্যোগের শিকার হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্য কোনো কারণ এর পেছনে কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ যাতে না ঘটে, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতে নির্বাসিত তিব্বতি সরকারের নেতা পেনপা সেরিংও এ ঘটনাকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শত শত মানুষের নিখোঁজ হওয়া এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবরে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন।

Related Articles

Latest Posts