শর্ত ভঙ্গ করায় মালিকের কাছ থেকে ২ হাতি ফিরিয়ে নিচ্ছে বন বিভাগ

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে মালিকদের কাছে দেওয়া হাতি সম্রাট ও নিহারকলিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে বন বিভাগ। হাতি দুটির মুক্তির সময় দেওয়া শর্ত মালিকরা মেনে চলেননি বলে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও মহাসড়কে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহারের অভিযোগে উদ্ধার করার পর প্রায় দুই বছর হাতি দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়েছিল। পরে মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকটি শর্তে হাতি দুটিকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল, হাতি দুটিকে নির্যাতন করা যাবে না, চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করা যাবে না এবং যথাযথভাবে লালন-পালন করতে হবে।

সম্রাটকে তার মালিক মনির মিয়ার কাছে এবং নিহারকলিকে মালিক আব্দুল মজিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বন কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি সম্রাটকে মৌলভীবাজারের জুড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। পরে তাকে জুড়ি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার চিতলিয়া এলাকায় নিহারকলিকে পাওয়া যাওয়ার পর তাকে রাজকান্দি রেঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।

শামসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন জানান, চার-পাঁচ দিন আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, একটি হাতিকে গাছ টানার কাজে ব্যবহারের জন্য লাউয়াছড়া এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ‘আমরা সেখানে গিয়ে হাতিটিকে পাইনি।’

রুহুল আমিন বলেন, ‘এর আগে শমসেরনগরে একটি জায়গায় হাতিটিকে থামিয়ে মাহুত পান কিনতে গেলে সেটি একটি দোকানে মুখ দেয় খাবারের জন্য। এতে দোকানটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে দোকান মালিক হাতিটির মালিককে ক্ষমা করে দেন। এরপর তারা কোথায় গেছে, তা জানা যায়নি।’

মৌলভীবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় নয় কিলোমিটার দূর থেকে সম্রাটকে জুড়ি রেঞ্জ অফিসে আনা হয়েছে। হাতিটি বর্তমানে সুস্থ আছে, তবে কিছুটা ক্লান্ত। আমরা মালিকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। পরে হাতিটিকে সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখ নাজমুল হক বলেন, ‘বন কর্মকর্তারা কমলগঞ্জ উপজেলার চিতলিয়ায় গিয়ে নিহারকলিকে দেখতে পান। বর্তমানে হাতিটিকে রাজকান্দি রেঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা এসে সেটিকে নিয়ে যাবেন। মালিক দাবি করেছেন, তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হাতিটি পেয়েছেন এবং এটি তার কাছে থাকায় কোনো সমস্যা নেই। তবে এটি মালিকের বক্তব্য। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার বলেন, ‘সম্রাটকে ইতোমধ্যে বন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে জুড়ি রেঞ্জ অফিসে রাখা হয়েছে। জুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সম্রাটকে জুড়ি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে এসেছেন। সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা পৌঁছালে হাতিটিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘নিহারকলিকে চিতলিয়া থেকে রাজকান্দি রেঞ্জে নিয়ে যাচ্ছেন শেখ নাজমুল হক। দুটি হাতিই বর্তমানে আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আমরা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। হাতি দুটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’

তবে সম্রাটের মালিক মনির মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই শখের বশে হাতিটিকে লালন-পালন করছি। আমাকে ফেরত দেওয়ার আগে এটি দীর্ঘদিন সাফারি পার্কে ছিল। এরপর আমি যথাযথভাবে এর যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

তার দাবি, হাতিটি ফেরত পাওয়ার পর তিনি সেটিকে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার করেননি। ‘কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমি হাতিটিকে চাঁদাবাজি বা কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার করিনি। শখের বশেই আমি এটিকে নিজের কাছে রেখেছিলাম।’

Related Articles

Latest Posts