লালমনিরহাটে শিশু হত্যায় ২ মাসে রায়, ছেলের মৃত্যুদণ্ড ও মা-বাবার কারাদণ্ড

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ৭ বছর বয়সী এক শিশু হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর দুই আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

মাত্র ৬ কার্যদিবসে ২৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয় বলে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার ফলিমারী গ্রাম থেকে গত ১৫ জুন বিকেলে শিশুটি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। পরদিন সকালে বাড়ির পাশে একটি খেতে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নলিনী মোহন বর্মণ পরদিন রাতে মামলা করেন।

মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে (২০) গ্রেপ্তার করে ১৬ জুন আদালতে হাজির করে পুলিশ।

অপর দুই আসামি হলেন বিধানের বাবা রনজিৎ কুমার (৪২) ও মা মমতা রানী (৩৭)।

সেসময় পুলিশ জানিয়েছিল, সেচের পানি নিয়ে দুই পরিবারের দ্বন্দ্বের জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে বিধান চন্দ্র আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, শিশুটিকে হত্যার দায়ে বিধানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরাধ গোপন ও লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে তাকে আরও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আর অপরাধে সহায়তার দায়ে তার বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, ‘দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও বাড়াবে।’

রায় ঘোষণার পর নিহত শিশুটির বাবা-মা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Latest Posts