গত ১৭ বছরে গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কল্যাণে নতুন একটি অধিদপ্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সেইসঙ্গে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান।
আজ রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর-এর আদলে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে, রাষ্ট্র তাদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়।’
‘যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারের কাছে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন—তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয়ত, গুম-খুন-নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করা। তৃতীয়ত, রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলির মধ্যে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

