জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সভা, সমাবেশ ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে প্রশাসন। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সক্রিয় ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আচরণবিধির খসড়া প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে ১৫ আগস্ট উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সমঝোতা সভার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে পাঁচ সদস্যের কমিটির সদস্যদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্রসংগঠনকে সহনশীলতা ও শিষ্টাচার বজায় রাখা এবং বিদ্যমান আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
জবি প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আজম খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সব সক্রিয় ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য আচরণবিধির খসড়া প্রণয়নে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের কমিটির সদস্যদের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এক-দুজনের নাম শুনেছি।
উপাচার্য অধ্যাপক রইস উদ্দীন ডেইলি স্টারকে বলেন, গতকাল সব সক্রিয় ছাত্রসংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। সভায় সবার সম্মতিতে ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের প্রস্তাব আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য আচরণবিধি না থাকায় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ৫ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৬ আগস্ট একই স্থান ও সময়ে তিনটি সংগঠনের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবির, ছাত্র ফ্রন্ট ও জকসুর সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনার পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা ও ভবিষ্যতে অস্থিরতা ঠেকাতে সব সক্রিয় ছাত্রসংগঠনের নেতাদের নিয়ে জরুরি সমঝোতা সভা আহ্বান করা হয়।

