কাতারে ৩ পাইলট ছয় মাস ধরে বন্দি দাবি ইরানের, দোহার অস্বীকার

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর কাতার তিন পাইলটকে জীবিত আটক করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে ইরানের এ দাবি অস্বীকার করেছে উপসাগরীয় দেশটি।

শনিবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ বলেন, যুদ্ধের সময় ইরানের তিন পাইলটকে জীবিত আটক করে কাতারি বাহিনী।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাঘেরজাদেহ বলেন, জাভেদ সালেহি, আব্দুল মজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান ছয় মাস ধরে কাতারি বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।

তাদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আটক পাইলটদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে বা যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

তবে ইরানের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানি পাইলটদের আটকের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবিগুলোকে আমরা পুরোপুরি অস্বীকার করছি। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে আমরা বিস্মিত।’

আল-আনসারি বলেন, পাইলটদের সন্ধানে কাতারের উদ্ধারকারী দল তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে।

তিনি জানান, নিখোঁজ পাইলটদের একজনের মরদেহ পাওয়ার পর সেটি ইরানের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কাতার।

এ ছাড়া, এপ্রিল মাসের সেই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত জানাতে একটি ইরানি দলকে কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ইরান এখনো সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি বলে জানান তিনি।

এক পাইলটের মরদেহ উদ্ধার

গত মাসে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, মার্চের শুরুতে কাতারে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় নিহত পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ফরোয়ার্ড ইউনিট, বিমানবাহিনী ও বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করেন। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।

মার্চের শুরুতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা ইরানের দুটি সুখোই সু-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে। তবে ওই বিমান দুটিই নিখোঁজ হওয়া পাইলটদের বহন করছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে কাতারসহ অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশ ইরানের পাল্টা হামলার মুখে পড়ে। যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ইরানের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে কাতার।

তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয় এবং প্রায় ৪০ দিনের লড়াইয়ের অবসান ঘটে। পরে জুনে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য একটি কাঠামোতে সই হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়।

এরপর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। এসব সংঘাতের কেন্দ্র ছিল মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালি।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর কাতারও হামলার শিকার হয়। দেশটির ভূখণ্ড এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অন্তত একটি কাতারি ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছিল দোহা।

এর মধ্যেই এই সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করে কাতার।

জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি লড়াই অনেকটা স্তিমিত রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ঘিরে বিক্ষিপ্ত হামলা অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Latest Posts