রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় দিনে-দুপুরে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুপিয়ে আহত করা হয় এক ব্যক্তিকে।
আহত মোহাম্মদ আল আমিন (৪৯) উত্তরা ডিএল ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় নগদ টাকা বহনকারী একটি গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় আল আমিনকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মো. আবদুল করিম বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৬-৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে আল আমিন ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে উত্তরা সেক্টর-১-এ পূবালী ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে ফিলিং স্টেশন থেকে বের হন। তার সঙ্গে ছিলেন সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান (৪০) ও কাভার্ড ভ্যানচালক মো. খোরশেদ (৪৩)।
ব্যাংকে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে বিআরটিএ লেনের কাছে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত তাদের গাড়ির গতিরোধ করে।
এজাহারে বলা হয়, ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিরা জিনস ও টি-শার্ট পরা ছিলেন। আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তারা চালককে গাড়ি থামানোর সংকেত দেন।
গাড়ি থামানোর পর দুর্বৃত্তরা টাকাভর্তি ব্যাগ দাবি করে। আল আমিন তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে একজন তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে রাখে। আরেকজন দা দিয়ে তাকে বারবার কোপাতে থাকে। এতে তার বাম কনুই, বাম হাতের তালু ও বাম পায়ে জখম হয়।
পরে দুর্বৃত্তরা টাকাভর্তি খাকি রঙের ব্যাগটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে আবদুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়। সাহায্যের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে এর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ফিলিং স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হামলার পর তিনি কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ব্যাংকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ বলে জানান মামলার বাদী ও ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মো. আবদুল করিম।
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমরা সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাংকে টাকা জমা দিই। আমাদের কোনো কর্মীর ওপর সন্দেহ নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছেন এবং বিশ্বস্ত।’
ওসি কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
‘আমরা ইতোমধ্যে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে,’ বলেন তিনি।

