আর্সেনালকে নতুন উচ্চতায় নেবেন গিমারেস, বিশ্বাস আর্তেতার

আর্সেনালের এক নতুন আশার নাম এখন ব্রুনো গিমারেস। দলটির কোচ মিকেল আর্তেতার বিশ্বাস, ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারই পারেন দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে; জাগাতে পারেন পারেন পুরো স্কোয়াডকে।

নিউ ক্যাসল থেকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে আর্সেনালে যোগ দেন গিমারেস। গত রবিবার এমিরেটস কাপে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগে ব্রাজিলীয় এই মিডফিল্ডারকে সমর্থকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন অবশ্য ডর্টমুন্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নরা।

২৮ বছর বয়সী গিমারেস চার বছরের চুক্তিতে আর্সেনালে এসেছেন। তার আগমনে দলটির মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হলো, যেখানে আগে থেকেই রয়েছেন ডেক্লান রাইস, মার্টিন ওডেগার্ড, মিকেল মেরিনো, মার্টিন জুবিমেন্দি ও এবেরেচি এজে।

গিমারেসকে ড্রেসিংরুমে পেয়ে রোমাঞ্চিত সমর্থকরা। ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্তেতা বলেন, ‘সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া দেখলেই সব বোঝা যায়। সে নিজেকে যোদ্ধা মনে করে, আর আমারও তা-ই মত। দুর্দান্ত ফুটবলীয় দক্ষতার পাশাপাশি তার মাঠের বুদ্ধি, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দলের মধ্যে একটা আলাদা স্পার্ক তৈরি করবে। দলের বাকিদেরও সেরাটা উজাড় করে দিতে উদ্বুদ্ধ করবে সে। ঠিক এ ধরনের ফুটবলারই আমাদের দরকার ছিল।’

টানা তিন মৌসুমে রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকার পর অবশেষে গত মৌসুমে ২২ বছরের খরা কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জেতে আর্সেনাল। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কারাবাও কাপের ফাইনালেও পৌঁছায় তারা। ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য গিমারেসকে থাকতে হয়েছে গ্যালারিতে। ইথান নোয়ানারি ও ভিক্টর গয়োকারেসের গোলও সেদিন আর্সেনালকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

এমিরেটস স্টেডিয়ামে জার্মানির ক্লাবটির হয়ে গোল তিনটি করেন সামুয়েলে ইনাসিও, কনস্ট্যান্টিনোস কারেতসাস ও জোয়ান গাদো। তবে ম্যাচের মূল সময় শেষে আগে থেকে ঠিক করে রাখা পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৪ ব্যবধানে জেতে আর্সেনাল।

বিশ্বকাপ শেষ করে আসা ওডেগার্ডকে এই প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথমবারের মতো মাঠে নামিয়েছিলেন আর্তেতা। সোমবার পুরো স্কোয়াডকে অনুশীলনে পাচ্ছেন তিনি। ম্যাচ হেরে হতাশা লুকিয়ে রাখেননি এই স্প্যানিশ কোচ, ‘ম্যাচ হেরে মনটা খারাপ। কিছু কিছু জায়গায় আমাদের দুর্বলতা ছিল খুব স্পষ্ট, বিশেষ করে সেট-পিস আর ডিফেন্ডিংয়ের সময়ে—যে জায়গাগুলোয় আমরা সাধারণত ভুল করি না।’

আক্রমণভাগের প্রশংসা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আক্রমণের ক্ষেত্রে কিছু অসাধারণ মুভমেন্ট ছিল। বেশ কিছু সহজ সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পাসের অভাবে তা গোলে রূপ নেয়নি, অথচ ওদের রক্ষণে স্পষ্ট ফাঁক ছিল। দিনশেষে ম্যাচটা হেরেছি বলেই খারাপ লাগছে, কারণ প্রতিপক্ষ যা-ই হোক, আমরা সব ম্যাচেই জিততে চাই।’

 

Related Articles

Latest Posts