রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে দলের পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকে বিরোধী জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
আজ সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামীকাল রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনও দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেবে এবং প্রার্থী জোটগতভাবে চূড়ান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। যেটা ফাইনাল হবে ১১ দলীয় জোটের প্রোগ্রামে। সম্ভবত কালকে (রোববার) জোটের বৈঠক হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ধারিত—এমন বাস্তবতার মধ্যে জামায়াত কেন অংশ নিচ্ছে, জানতে চাইলে মিলন জানান, ফলাফলকে তারা বিবেচনার মূল বিষয় হিসেবে দেখছেন না।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ফলাফল যেটাই হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আমরা খুব ভালো একজন প্রার্থী দেব এবং তিনি যোগ্য প্রার্থী হবেন, যাকে দেশ গ্রহণ করবে।
তবে কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জানাননি তিনি।
মিলন আরও বলেন, নির্বাচনে আমরা অংশ নেব। আমরা তো সরকারি দলের হুকুমে চলব না। সরকারি দল তাদের কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করছি।
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
শনিবার রাতেই ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে।
এতে আরও বলা হয়, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বিরোধীদলের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, আমরা এখনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিইনি। আলোচনা চলছে। রোববার আমাদের একটি বৈঠক আছে। ওই বৈঠকের পর আমাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারব।
অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিতে চায় না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, আজ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিয়মিত মাসিক সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সভায় দলের বিভিন্ন এজেন্ডা থাকে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি না, আজ এ বিষয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ হয়নি।
তবে দলের মহাসচিব হিসেবে তার ব্যক্তিগত মত জানতে চাইলে জালালুদ্দীন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার শুধু সংসদ সদস্যরা। আমি যেহেতু দলের মহাসচিব, আমার ব্যক্তিগত মত হলো—এই নির্বাচনে ভোটার কারা, আপনি জানেন। যারা জাতীয় সংসদের সদস্য, তারাই ভোটার।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আমরা রাষ্ট্রপতি প্রার্থী দিয়ে লাভটাই কী? আমাদের প্রার্থী দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।
জালালুদ্দীন বলেন, আমার মনে হয়, ১১ দল থেকেও প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসবে।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন।
১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। একাধিক বৈধ প্রার্থী না থাকলে ওই দিনই নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সংসদ সদস্যদের। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

