দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কয়েকটি আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম শনিবার এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে মেসিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবরের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবে ও রোজারিও থ্রিয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর রোজারিওর একটি ক্লিনিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন হোর্হে মেসি। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট গোলও খবরটি প্রকাশ করেছে। তবে তারা উল্লেখ করেছে, এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোও তার মৃত্যুর খবরটি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ই হোর্হে মেসির অসুস্থতার খবর সামনে এসেছিল। তখন আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, তিনি বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর মহাতারকা মেসিকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল। খেলা শেষে কান্নার কারণ জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কেন কাঁদছিলাম? ফুটবলের সঙ্গে এর একেবারেই কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটি দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে।’
তখন নানা জল্পনা-কল্পনা ডালপালা মেলতে থাকায় একটি বিবৃতি দিয়েছিল মেসিদের পরিবার। সেখানে বলা হয়েছিল, ‘আমাদের পরিবার সবাইকে জানাচ্ছে যে, হোর্হে মেসি বর্তমানে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং বেশ ভালোভাবে সেরে উঠছেন।’
ছেলের ক্যারিয়ারের একদম শুরু থেকেই বড় ভূমিকা ছিল হোর্হের। মেসির এজেন্ট হওয়ার আগে তার বর্ণাঢ্য ও সাফল্যে ভরপুর ক্যারিয়ারের বিকাশে পথপ্রদর্শকের কাজ করেন তিনি। ২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কিশোর মেসির রোজারিও ছেড়ে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রক্রিয়াতেও নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে মেসি যখন তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, তখনও তার মাঠের ভেতরের ও বাইরের জীবনের অন্যতম প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভূমিকা রাখেন তার বাবা।

