দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। গতকাল শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি ক্লিনিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই খবর নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসির পরিবার।
তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জীবনের শেষ মাসগুলো হোর্হে মেসি রোজারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং নিজের বাড়িতে থাকার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। এসময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী সেলিয়া এবং তিন সন্তান রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল।
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার আগে বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন মেসি। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই দলটির হয়ে মাঠে ফিরেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রথম দিকের বছরগুলো থেকে শুরু করে ছেলের পুরো ক্যারিয়ারেই ছায়ার মতো নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন হোর্হে। মেসির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভরসার জায়গা হিসেবে কাজ করেন তিনি। বেশ কয়েক বছর ধরে ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দেখা গিয়েছিল তাকে।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বাবার প্রভাব নিয়ে এর আগে তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলার মেসি বলেছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার সব সময় বাবার অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। প্রতিটি ম্যাচের পরই আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম, আমার খেলা তার কাছে কেমন লেগেছে।’
এক বিবৃতিতে শোক জানিয়েছে মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ, ‘রোজারিও শহরে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন হোর্হে মেসি। তার এই মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে ক্লাব অ্যাতলেতিকো নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ।’
মেসির পরিবার নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টা আগেই বেশ কয়েকটি আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম হোর্হের মারা যাওয়ার খবর দিয়েছিল। তাদের মধ্যে রয়েছে ইনফোবে ও রোজারিও থ্রি। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট গোলও খবরটি প্রকাশ করে।
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের সময়ই মেসির বাবার অসুস্থতার খবর সামনে এসেছিল। তখন আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, তিনি বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন।

