আবারও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে কড়াকড়ি, ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কয়েক মাস আগে তার একই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প এবার নতুনভাবে দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

আজ শুক্রবার এপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ট্রাম্প মনে করেন, নতুন উদ্যোগগুলো সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে কীভাবে সেগুলো কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

নতুন নির্বাহী আদেশের একটিকে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হওয়ার সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। আগের আদেশের তুলনায় এটি কিছুটা সীমিত পরিসরের। এতে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি দূতাবাস বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সন্তান।

এ ছাড়া যেসব অভিভাবক প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে ভিসার নিয়ম আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের ভিসাতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করতে চান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ আদালতে টিকবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট আগেরবার ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছিল এবং এবার তিনি ভিন্ন উপায়ে বিষয়টি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম সুপ্রিম কোর্টে আমরা জিতব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি অন্যায্য সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমরা এবার অন্যভাবে বিষয়টির সমাধান করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিয়ম চালু আছে, দেশটির মাটিতে জন্ম নিলে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হয়। অবশ্য খুব সীমিত কিছু ব্যতিক্রম আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের দাবি, এই নিয়মের কারণে অনেক মানুষ কেবল সন্তানকে মার্কিন নাগরিক করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাদের মতে, এতে অভিবাসন আরও বাড়ছে এবং নাগরিকত্বের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও অনেক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, সংবিধান এ বিষয়ে একেবারেই স্পষ্ট। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রে এক ধরনের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (এমপিআই) বলছে, কেবল সন্তানকে মার্কিন নাগরিক বানানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসা চাওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, এমন উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়া প্রতারণা হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই আগে থেকেই এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান বা ভিসা বাতিল করার সুযোগ ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে আনুমানিক ২৬ হাজারকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সম্পর্কিত বলে ধরা হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেয়। সেই আদেশে তিনি অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ওই আদেশে সই করেছিলেন। কিন্তু সেটি কার্যকর হওয়ার আগেই কয়েকটি নিম্ন আদালত স্থগিত করে দেয়। পরে সুপ্রিম কোর্টও আদেশটি বাতিল করে।

আদালতের পাঁচজন বিচারপতি বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেই সুরক্ষিত।

আরেক বিচারপতি ব্রেট কাভানাহও ট্রাম্পের আদেশের বিরোধিতা করেন। যদিও তিনি বলেন, এই অধিকার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন থেকেই আসে।

মার্কিন নাগরিক অধিকার সংগঠন এসিএলইউ ইতোমধ্যেই জানিয়েছে, ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগও আদালতে টিকবে না।

সংগঠনটির অভিবাসী অধিকার প্রকল্পের উপপরিচালক কোডি উফসি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই এই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করেছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো নির্বাহী আদেশ সংবিধানের অর্থ বদলে দিতে পারে না। তাই নতুন এই আদেশের পরিণতিও আগের মতোই হবে।

Related Articles

Latest Posts