এখনো কেন বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তেই অটল উয়েফা?

ফিফা বিশ্বকাপ এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মালিকানার অংশীদারিত্ব বেসরকারী বিনিয়োগকারী বা প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের কাছে বিক্রি করার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফিফা সেই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এলেও এবং মরক্কোর রাবাতে নির্বাহী সভার পর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও উয়েফা আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। অর্থাৎ এখনো বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বয়কটের সিদ্ধান্তই বহাল তাদের। 

উয়েফা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দুটো সুনির্দিষ্ট শর্তের কথা জানিয়েছে: 

উয়েফার স্পষ্ট বক্তব্য, এই শর্তগুলো এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, জিয়ানি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর থেকে উয়েফা সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে। 

কেন সমাধান হচ্ছে না এই সংকটের?

মরক্কোয় ফিফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দাবি করা হয়, শীর্ষ কর্মকর্তারা সভাপতির ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে এতে বিন্দুমাত্র বরফ গলেনি উয়েফার। ফিফার এই দাবিকে একপ্রকার নস্যাৎ করে উয়েফা মন্তব্য করেছে—ইনফান্তিনোর অধীনস্থ যেসব কর্মকর্তা ‘তার’ অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল, ‘তাদের’ সমর্থনে উয়েফার অবস্থান বদলাবে না। 

চারপাশ থেকে আসা চাপ ও প্রতিক্রিয়া

১. ইংলিশ এফএ ও ফাইফপ্রো : ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলারদের সংগঠন ‘ফাইফপ্রো’ একে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

২. মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ: ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ জানিয়েছে, এই সংকট প্রমাণ করে ফিফার প্রশাসনিক সংস্কার কতটা জরুরি।

৩. অন্যান্য কনফেডারেশনের ভূমিকা: উত্তর আমেরিকার ‘কনকাকাফ’ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (‘এএফসি’) আগেই ফিফার প্রাইভেট ইকুইটি প্ল্যান প্রত্যাখ্যান করেছিল। 

আফ্রিকান ফুটবলের সমর্থন ও রাজনৈতিক মেরুকরণ

বিশ্ব ফুটবলের এই টানাপোড়েনে একমাত্র ব্যতিক্রম আফ্রিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাফ (‘সিএএফ’)। মরক্কোর মিটিংয়ের পর ক্যাফ সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে জানান, তারা সর্বসম্মতভাবে জিয়ানি ইনফান্তিনোর প্রতি ‘তাদের’ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছেন এবং আফ্রিকান ফুটবলে ‘তার’ অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। 

আগামী দিনের ফুটবল রাজনীতি

বিশ্বকাপের লাভজনক অংশীদারিত্ব বিক্রির যে উদ্যোগ ইনফান্তিনো নিয়েছিলেন, তা ইউরোপীয় ফুটবলের কঠোর প্রতিবাদের মুখে ভেস্তে গেছে। তবে কেবল পরিকল্পনা বাতিলই নয়, ইনফান্তিনোর ওপর ইউরোপের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায়। বয়কটের হুমকি বজায় রেখে উয়েফা আসলে ফিফা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ও ইনফান্তিনোর বিকল্প নেতৃত্ব খোঁজার পথই প্রস্তুত করছে। 

 

Related Articles

Latest Posts