চারশরও বেশি পেশাদার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে জোশ হ্যাজলউডের। বিশ্বসেরা ব্যাটারদের হাঁড়ির খবর, তাদের শক্তি আর দুর্বলতার জায়গাগুলো তার নখদর্পণে। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে তথ্যের সেই চেনা ভাণ্ডার খুব একটা কাজে আসছে না তার।
কারণ মূলত দুটি। প্রথমত- বাংলাদেশের ‘টাইগার’দের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়া খুব একটা পায় না, বিশেষ করে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ টেস্টে তো আরও কম। ২০১৭ সালে দুই দলের শেষ টেস্ট সিরিজে স্কোয়াডে ছিলেন না হ্যাজলউড। এমনকি গত জুনে অস্ট্রেলিয়া দল যখন তিন ওয়ানডে আর তিন টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশ সফর করে, সেবারও তিনি বিশ্রামে ছিলেন।
১৫ বছরের সুদীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এশিয়ার এই দলটির বিরুদ্ধে মাত্র ৯টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী এই পেসারের। যার শেষ তিনটিই ছিল সীমিত ওভারের বিভিন্ন বিশ্বকাপে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেকটি নতুন সমীকরণ—দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও ডারউইনে টেস্ট খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া। নিজের দেশের খেলা হলেও ডারউইনের উইকেট আর আবহাওয়া অচেনা এক ধাঁধার মতোই দাঁড়িয়েছে অসিদের সামনে। জোড়া টেস্টের এই সিরিজটি তাই ঘরের মাঠে খেলেও অসিদের কৌশলগত প্রস্তুতির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’-এ নিজের ভাবনা শেয়ার করতে গিয়ে হ্যাজলউড বলেন, ‘বেশ কিছু অজানা বিষয় সঙ্গে নিয়ে আমাদের মাঠে নামতে হচ্ছে। ডারউইনের মাঠটাই যেমন এক অচেনা প্রান্তর। বিশেষ করে এখানকার উইকেট আর এই কন্ডিশনে প্রতিপক্ষ দল—সব মিলিয়ে পুরোটাই নতুন এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।’
‘অনিশ্চয়তা অনেক, তবে বিষয়টাকে আমি বেশ রোমাঞ্চকর হিসেবেই দেখছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে ওদের ব্যাটারদের ব্যাটিং ধরণ বা ঝোঁক সম্পর্কে হয়তো একটা ধারণা পাওয়া যাবে। তবে আসল কাজটা করতে হবে ২২ গজে গিয়েই। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে একদম তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হতে পারে, আর এই ব্যাপারটা বেশ নতুন একটা স্বাদ দেবে,’—যোগ করেন তিনি।
পডকাস্টটির সহ-সঞ্চালক ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার কেন রিচার্ডসন শৈশবের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন এই ডারউইনেই। কন্ডিশন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন অসি পেস বহরকে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা না করার পরামর্শই দিয়েছেন তিনি।
রিচার্ডসনের মতে, ডারউইনের শীতকালীন শুষ্ক ও খরতপ্ত আবহাওয়ার কারণে মারাড়া স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন উইকেট কিছুটা শ্লথগতির হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে গত বছর এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি, যেখানে বলের লাফানোয় কিছুটা অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল।
পডকাস্টে রিচার্ডসন বলেন, ‘কন্ডিশন ঠিক কেমন হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তবে এটা যে পার্থ স্টেডিয়াম কিংবা গ্যাবায় প্রথম দিনের মতো উইকেট হতে যাচ্ছে না, তা নিশ্চিত। আর দশটা চেনা অসি উইকেটের মতো হয়তো এখানে সুইং, সিমে বাড়তি ধার কিংবা বাউন্স পাওয়া যাবে না। পেসারদের জন্য কাজটা কঠিনই হবে। তবে নিচু বাউন্সের কারণে উইকেটটা কিছুটা বাংলাদেশের চেনা কন্ডিশনের মতো হলেও হতে পারে।’
২৯৫টি টেস্ট উইকেটের মালিক হ্যাজলউডও মনে করেন, ম্যাচের গতিপথ দেখে তাৎক্ষণিক কৌশল তৈরি করার সুযোগটা রোমাঞ্চের। তবে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে নিজের বোলিং ভাবনা একদম সহজ-সরল রাখতেই পছন্দ করেন এই পেসার।
‘টেস্ট ক্রিকেটের পরিকল্পনা খুব জটিল কিছু নয়,’ বলছিলেন হ্যাজলউড, ‘মূল বিষয় হলো নিজের শক্তির জায়গায় টানা বল করে যাওয়া, আর সেটা দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখা। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়তো কিছুটা অদলবদল আনতে হয়, তবে মোটের ওপর খেলাটা খুব সাধারণ ভাবনায় খেলাই সেরা।’

