বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ৪২০ কোটি ডলারে বিক্রির মেগা প্রস্তাব বাতিল করার পরও তীব্র সমালোচনা আর বিরোধিতার মুখে আছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভেতরে-বাইরে থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে নিজেকে ‘কোণঠাসা’ মনে করছেন বর্তমান ফিফা সভাপতি। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে সোমবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, গত শুক্রবারে ওই প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে ফিফা প্রধানের দায়িত্বে থাকা এই সুইস-ইতালিয়ান নাগরিক মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণায় তিনি এখন পুরোপুরি ‘কোণঠাসা’। তবে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফিফা কোনো মন্তব্য করেনি।
ফিফার বাণিজ্যিক সম্পদ একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ছিল। বিশ্বকাপসহ ফিফা আয়োজিত বিশ্ব ফুটবলের বড় ইভেন্টগুলো পরিচালনার জন্য যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২০০০ কোটি ডলার। এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ (প্রায় ৪২০ কোটি ডলার) শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করাই ছিল ইনফান্তিনো ও ফিফার মূল লক্ষ্য। তবে বিভিন্ন অংশীদারের তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠতে বাধ্য হয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এই উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আগামী ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদের জন্য এই পদে তার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে লেগেছে জোর ধাক্কা। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসির মতো মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলো যেমন তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তেমনি ফিফার ভেতরেও আস্থার সংকটে পড়েছেন তিনি।
ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেশ পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপসহ একাধিক বড় ফুটবল আসরে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। সম্পর্কের সেই ঘনিষ্ঠতা ফুটে ওঠে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন ট্রাম্পের হাতে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেন ইনফান্তিনো। তবে বিষয়টি নিয়ে তখন হয়েছিল তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
ভেস্তে যাওয়া প্রস্তাবটি ঘিরেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ শেয়ার বিক্রি ও বিনিয়োগকারী খোঁজার মূল দায়িত্বে রাখা হয়েছিল মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’কে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জশুয়া কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট আরও জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও একান্ত আলাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। দুটি সূত্রের মতে, এই শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকের বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় এই ফোনালাপ হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন সামাজিক মাধ্যম এক্সে অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনোর সঙ্গে রুবিওর কথা বলার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’ এবং ‘এমন কোনো ফোনালাপের কথাও ছিল না’।
উল্লেখ্য, প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়েলস। এরপর তার পুনর্নির্বাচনের সমর্থনে না হাঁটার পথ বেছে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সব মিলয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অন্দরমহলে এখন প্রবল ঝড় বইছে।

