বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা গত বুধবারের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্যে আসে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত জুনে ওই নারী চিকিৎসক বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যোগ দেন। এরপর থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন সময় অকারণে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন ও অশালীন ইঙ্গিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাবিত বা রুজু হলে অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি বিবেচনায় সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখতে পারে। তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় অভিযুক্ত ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ওই নারী চিকিৎসক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন বা অধস্তন—সব পর্যায়ের কর্মকর্তারই আচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। বিভাগীয় কার্যক্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী চলবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত না থাকা ও সময়মতো দায়িত্ব পালন না করায় ৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। এর পরদিন ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

