গোল্ডেন গ্লাভস পেয়ে সতীর্থদের কৃতিত্ব দিলেন উনাই সিমন

১৬ বছর পর স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মহাকাব্যে পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে তার হাতে উঠেছে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’। তবে ব্যক্তিগত এই বড় অর্জনের দিনেও একা কৃতিত্ব নিতে নারাজ অ্যাথলেটিক ক্লাবের এই ২৯ বছর বয়সী তারকা। স্পেনের এই দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগের পুরো কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেছেন দলের বাকি সতীর্থদের।

আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করে অবিশ্বাস্য এক বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল স্পেন। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লা রোহারা। গোটা টুর্নামেন্টে রেকর্ড সাতটি ‘ক্লিন শিট’ রাখা সিমন ফাইনাল শেষে সতীর্থদের প্রতি তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্পেনের এই রক্ষণাত্মক রেকর্ডের পেছনে নিজের ভূমিকার চেয়ে দলের রক্ষণভাগের ওপরই বেশি আলো ফেলেন সিমন। সতীর্থদের স্তুতি গেয়ে এই গোলরক্ষক বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমার গ্লাভস দুটি যদি কথা বলতে পারত, তবে তারা বলত যে অন্য গোলরক্ষকদের তুলনায় তাদের খুব বেশি কাজ করতে হয়নি। সাতটি ম্যাচে ক্লিন শিট রাখার এই রেকর্ড ভাঙা সহজে সম্ভব নয়। তবে আমি এই কৃতিত্ব নিজের নয়, বরং আমার সতীর্থদের দিতে চাই। পুরো টুর্নামেন্টে দলের খেলোয়াড়রা যে স্তরের রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি তাদের সঙ্গে কৃতজ্ঞ।’

ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে দলের এই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের বিশালতা এখনো পুরোপুরি ছুঁয়ে যায়নি সিমনকে। তিনি মনে করেন, স্পেনে পা রাখার পরেই হয়তো এই অর্জনের আসল মাহাত্ম্য টের পাবেন।

মুন্দো দেপোর্তিভোকে সিমন বলেন, ‘আমরা এখনো পুরো বিষয়টা অনুধাবন করার চেষ্টা করছি। রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, তখন আমার মধ্যে আলাদা কোনো আবেগ কাজ করছিল না; শুধু মনে হচ্ছিল—আমরা এটা করে দেখিয়েছি, আমরা পেরেছি। যখন আমরা স্পেনে পৌঁছাব, তখন বুঝতে পারব আজ আমরা কী ধরনের পাগলামি করেছি।’

৫০ দিনের দীর্ঘ এই ক্যাম্পে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড় ও সাইডবেঞ্চের সবার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ম্যানেজারকেও কৃতিত্ব দেন সিমন। একই সঙ্গে ফাইনালের প্রথমার্ধে লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে সাজানো আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক কৌশল সামলানোর স্নায়ুচাপের কথাও স্বীকার করেন তিনি। সিমন জানান, ৭০ মিনিটের পর থেকে ম্যাচ পুরোপুরি স্পেনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং নিজেদের চেনা খেলার ধরন ধরে রেখেই তাঁরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

Related Articles

Latest Posts