মেসির বিপক্ষে ফাইনালের আগে ইয়ামালের শৈশবের মহল্লায় উৎসবের আমেজ

বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামবেন লামিন ইয়ামাল। তবে এই ম্যাচ ঘিরে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা হয়তো বার্সেলোনার উপকণ্ঠের ছোট্ট শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দায়। যেখানে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন স্পেনের এই বিস্ময়বালক, সেখানে এখন গর্ব আর উচ্ছ্বাসের ঢেউ।

১৮ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা কেবা বলেন, ‘এখন সেই মুহূর্ত এসে গেছে, যখন তারা দুজন একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

ছোটবেলা থেকেই মেসিকে আদর্শ মানতেন ইয়ামাল। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবি, যেখানে তরুণ মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, এই লড়াইকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।

রোকাফোন্দার একটি মাঠে, যেখানে দেয়ালে আঁকা রয়েছে ইয়ামালের বিশাল প্রতিকৃতি, সেখানে খেলছিল অভিবাসী পরিবারের শিশুরা। কাছের বেঞ্চে বসে সেই দৃশ্য দেখছিলেন ইয়ামালের দাদি ফাতিমা নাসরাউই এবং ১৫ বছর বয়সী চাচাতো ভাই রায়ান।

নাতির জন্য নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে দাদি বলেন, ‘আমি চাই স্পেন জিতুক। আর ইয়ামাল গোল করলে আমি সবচেয়ে জোরে চিৎকার করব।’

চাচাতো ভাই রায়ানও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার কাছে ইয়ামাল অনেক ভালো কিছুর প্রতীক। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সে আমার ভাইয়ের মতো। আমরা একসঙ্গেই বড় হয়েছি।’

মরক্কান বাবা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মায়ের ঘরে স্পেনে জন্ম নেওয়া ইয়ামাল কখনোই নিজের শিকড় ভুলে যাননি। গোল করার পর তার বিখ্যাত ‘৩০৪’ হাতের ইশারা আসলে রোকাফোন্দার ডাকঘরের পোস্টকোডের প্রতি শ্রদ্ধা।

চলতি বিশ্বকাপেও নিজের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তিনি। মাথায় ‘রোকাফোন্দা’ লেখা হেডব্যান্ড পরেছেন, বুটে বহন করেছেন বাবা-মায়ের জন্মভূমি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পতাকা। পাশাপাশি বারবার বলেছেন, ফুটবল মানুষকে এক করে এবং জাতিগত ও সামাজিক সংহতির অন্যতম সেরা উদাহরণ।
 

Related Articles

Latest Posts