আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা: যত রেকর্ড

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মহাতারকা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন উপহার দিয়েছে। বুধবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের মহাযজ্ঞের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে দলটি।

৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। সেই ধাক্কা সামলে এরপর এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে আর্জেন্টিনাকে অনুপ্রেরণা জোগান মেসি। শেষদিকে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে এনজো ফার্নান্দেজ (৮৫তম মিনিট) ও লাউতারো মার্তিনেজের (৯০+২তম মিনিট) দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি।

ফলে বর্তমান উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে একটি ব্লকবাস্টার ফাইনালের মঞ্চ তৈরি করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা, যেখানে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবে।

ম্যাচটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ও পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

* আর্জেন্টিনা সপ্তমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল, যা যেকোনো দলের জন্য এককভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাদের সামনে আছে কেবল জার্মানি (আটবার)।

* আর্জেন্টিনা মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাল। এর আগে তারা ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে এই কীর্তি গড়েছিল।

* ১৯৬৬ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জেতার পর ইংল্যান্ড তাদের শেষ তিনটি সেমিফাইনালের (১৯৯০, ২০১৮ ও ২০২৬) প্রতিটিতেই হারল।

* আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালটি হবে বর্তমান উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান কনমেবল কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নের মধ্যকার প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল।

* ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এখন তার নামের পাশে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে গোল বা অ্যাসিস্ট করতে ব্যর্থ হলে মেসির প্রথমবারের মতো গোল্ডেন বুট জেতা একরকম নিশ্চিত।

* একুশ শতকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমে গোল করেও ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার মাত্র দুটি ঘটনা ঘটল। দুটিতেই পরাস্ত হওয়া দলের নাম ইংল্যান্ড— ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ও ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।

* বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি এখন পর্যন্ত সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৩টি (২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট) গোলে অবদান রেখেছেন। ২৫টি গোলে অবদান নিয়ে (২০টি গোল ও ৫টি অ্যাসিস্ট) তার ঠিক পরেই আছেন এমবাপে।

* এবারের বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই মেসি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন এবং এখন পর্যন্ত টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করার মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন।

* ইংল্যান্ডের গর্ডন তার শেষ চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচে সরাসরি ৪টি গোলে সম্পৃক্ত ছিলেন।

* মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে তার পঞ্চম ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জিতেছেন, যা গতবার কাতারে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে জেতা পাঁচটি ম্যাচসেরার সম্মাননার সমান। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি এখন রেকর্ড ১৬টি ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের মালিক।

* ২০২২ বিশ্বকাপে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া লাউতারো চলমান টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে তিনটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

* এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত ১৯টি গোল করেছে— যা একুশ শতকে একটি নির্দিষ্ট বিশ্বকাপে যেকোনো দলের জন্য সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, তারাও এর আগে কখনও কোনো আসরে এত গোল করতে পারেনি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে ১৯৩০ সালে দলটি ১৮টি গোল করেছিল।

* আর্জেন্টিনার ১৯টি গোলের মধ্যে ১২টি এসেছে ৭৫ মিনিটের পর। এর মধ্যে ৭৫ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়েছে ৮টি গোল আর ৪টি গোল এসেছে অতিরিক্ত সময়ে।

Related Articles

Latest Posts