‘কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে জমে গেছে কোটি টনের বেশি আবর্জনা’

কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে এক কোটি ২০ লাখ টনের বেশি ময়লা-আবর্জনা জমে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শহর পরিষ্কার রাখতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বড়দের সম্মান করা, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার করার বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আজ বুধবার ‍দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

শাহে আলম বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বহুদিন বহু কথা শুনেছি। গত চার মাসে চীন, কোরিয়া, জাপান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এত দল আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে! প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমি নিজেও কনফিউজড। সর্বশেষ আশার আলো দেখা গেছে, চাইনিজ একটি কোম্পানির সঙ্গে অনেক আগে সরকারের একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই ‍চুক্তি অনুসারে মাঝে তিন বছর কাজ বন্ধ ছিল।’

তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে পরিবেশ, বিদ্যুৎ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও উত্তর সিটি করপোরেশনকে এক জায়গায় করে বলা হয়েছে, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল থেকে ময়লা-আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা হোক। আমরা তাদের তিন বছর চুক্তি বর্ধিত করে দিয়েছি। আগের চুক্তি যা ছিল, চোখ বন্ধ করে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। তাও ময়লা-আবর্জনার একটা ফয়সালা হওয়া দরকার।’

‘এই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে আমিনবাজারের ময়লা-আবর্জনা পুড়িয়ে তারা (চীনা কোম্পানি) জাতীয় গ্রিডে ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে,’ যোগ করেন তিনি।

শাহে আলম আরও বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্প দক্ষিণ কোরিয়াকে দেওয়া হয়েছে। মিনিস্টার হিসেবে আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না, এটা তারা করতে পারবে কি না। ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে কিন্তু রাষ্ট্রের বিন্দুমাত্র ব্যয় নেই। সমস্ত বিনিয়োগ তাদের। উল্টো তারা আমাদের জায়গা ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেবে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আবর্জনা ব্যবহার করায় কেজি প্রতি ১০ পয়সা করে দেবে। ময়লা তারা আমাদের কাছ থেকে কিনে নেবে। ময়লা-আবর্জনা থেকে তারা আমাদের পাঁচটি জিনিস দিতে চেয়েছে। সেগুলো হলো—স্তূপাকার ময়লার গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমাদের দেবে; ময়লার উপরে সোলার প্যানেল নির্মাণ করে বিদ্যুৎ দেবে; আবর্জনা থেকে জৈব সার করবে; আবর্জনায় থাকা মাছির লার্ভা থেকে মাছ ও মুরগির জন্য খাবার তৈরি করবে এবং পলিথিন থেকে তারা কেরোসিন তেল উৎপাদন করে দেবে, পাশাপাশি কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়াল থেকে ইউনিব্লক তৈরি করবে। এক মাস আগে দক্ষিণ কোরিয়াকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমিন বাজারের বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট প্রায় ২৭ টাকা দরে আমাদের কিনতে হবে। ২০২১ সালের চুক্তি, এটা আগের সরকার করে গেছে।’

‘বিদ্যুৎ কত টাকায় কিনলাম এটা বিষয় না, আমাদের আবর্জনার তো ব্যবস্থাপনা হচ্ছে। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী আপাতত অনুমোদন দিয়েছেন। দক্ষিণে বিদ্যুতের মূল্য কম। তারা মাত্র ১০ থেকে ১১ টাকা ইউনিট নেবে,’ যোগ করেন শাহে আলম।

Related Articles

Latest Posts