ফুটবল বিশ্বকাপের ভরা মৌসুমে আড়ালেই পড়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। ক্রিকেটাররা ভাবতে পারেন ভাগ্যিস আলোটা আপাতত তাদের দিকে নেই! না হলে গত কয়েকদিনে যেমন পারফরম্যান্স করেছে গোটা দল, তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার কথা। জিম্বাবুয়েতে গিয়ে একমাত্র টেস্টে ইনিংস হারের পর ওয়ানডে সিরিজেও পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। এরমধ্যে চোট শঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়েও খুব আশাবাদী হতে দিচ্ছে না।
গতকাল সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ১২২ তুলে ফেলার পর অস্বাভাবিক ধসে ওই ম্যাচ সফরকারী দল হেরেছে ১৩ রানে। প্রথম ওয়ানডেতেও দল হেরেছিল ২৫ রানে। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তাই সিরিজের মীমাংসা শেষ। শনিবার শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে হোয়াইটওয়াশের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানোর মিশন।
এই ম্যাচের মধ্যেই জানা গেছে গোটা সফর থেকে ছিটকে গেছেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। এর আগে কাফ মাসলের চোটে সিরিজ থেকে ছিটকে যান কিপার-ব্যাটার লিটন দাস। দলের বেহাল দশার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ দুজনের অনুপস্থিতি মিলিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আছে বিপাকে।
জিম্বাবুয়ে এমনিতেই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আফ্রিকার মাঠগুলোতে বাড়তি বাউন্স, সুইং মিলিয়ে ভোগেন ব্যাটাররা। তবে নিজেদের পেস আক্রমণ শক্তিশালী হওয়ায় এবার ভিন্ন কিছুর আশা করা হচ্ছিল। তবে ২০২২ সালের মতো এবারও সেখানে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ হারল বাংলাদেশ।
গতকাল রান তাড়ায় ৩৮ রানে ২ উইকেট পড়ার পর বড় জুটি গড়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয়। ৮৩ রানের জুটিতে এক পর্যায়ে জেতার পথে ভালোভাবেই ছিল দল। ৫৭ করে তানজিদ বোল্ড হওয়ার পর হৃদয় থামেন বাজে শটে। এরপর চলতে থাকে আসা-যাওয়ার মিছিল। শেষ দিকে মিরাজ কিছু চেষ্টা চালালেও কেউই আসলে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি।
দলের এই অবস্থার জন্য নিজেদের দায় দেখেন তানজিদ, ‘যখন আমি আর হৃদয় ব্যাট করছিলাম, আমরা খুব ভালোভাবেই থিতু হয়েছিলাম এবং এটা (জুটি) বড় করা দরকার ছিল। দুজনই পঞ্চাশের পর আউট হয়েছি। কিন্তু একজনের উচিত ছিল শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস টেনে নেওয়ার। আমার মনে হয়, এ কারণেই ম্যাচ হেরেছি।’
জিম্বাবুয়ের ইনিংসের পুরোটা ব্যাট করে ওপেনার বেন কারান ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তানজিদের মতে এটাই গড়ে দিয়েছে ফারাক, ‘সে (কারান) শেষ বল পর্যন্ত ইনিংস টেনে নিয়েছে, আমরা পারিনি। এটিই পার্থক্য।’
টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ভিন্ন বাস্তবতা দেখল বাংলাদেশ। সিরিজের বাকি সময়টাও কঠিন হওয়ার আভাস স্পষ্ট। তবে শনিবার শেষ ওয়ানডে জিতে অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভিন্ন ফল আনতে মরিয়া তানজিদ, ‘এটা খারাপ একটা সিরিজ গিয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে আমাদের একটি ওয়ানডে আছে। যদি আমরা ভালো খেলি এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগে ভালো করি, তাহলে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভালো করার আত্মবিশ্বাস দেবে।’
সফরের শুরুতে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ৮৫ রানে। জিম্বাবুয়ের কাছে এত বড় ব্যবধানে কখনো হারেনি বাংলাদেশ। দলটির বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল ২৫ বছর পর! গত কয়েক মাস টেস্টে দারুণ ফল করা বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েতে গিয়ে যেন ফিরিয়ে আনল সেই শুরুর সময়।
বাংলাদেশকে টেস্টে ওভাবে হারানোর পর জিম্বাবুয়ের এক সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাডেড’; ওয়ানডে সিরিজেও একই ফল আসলে তারা শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাডেথ’। এসব দেখলে নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটারদের গায়ে লাগার কথা। উজ্জীবিত হয়ে তারা সফরের শেষটা অন্তত ভালো কিছু করতে পারেন কি না, দেখার বিষয়।

