জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিমের দুটি লড়াকু অর্ধশতকও রক্ষা করতে পারল না বাংলাদেশকে। জয়ের পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল টাইগাররা, কিন্তু শেষ দিকে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে হার মেনে নিতে হয়েছে তাদের। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

বৃহস্পতিবার হারারের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ১৩ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

হৃদয় ৯০ বলে ৬০ এবং তানজিদ ৭০ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানও ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। তবে অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার বলে সোহান আউট হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ চার উইকেট মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে হারিয়ে হারের বৃত্তেই আটকে যায় টাইগাররা।

সাত নম্বরে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ ২৭ রান করলেও শেষ দিকে এনগারাভার শিকার হন। তিন উইকেট নেওয়া এই পেসারের দারুণ বোলিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল আফ্রিকার দলটি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একসময় ৩৬.৪ ওভারে ১৪৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ওপেনার বেন কারান ও ব্র্যাড ইভান্স অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটিতে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন।

কারান ১৩৫ বলে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৯টি চার। অন্যদিকে ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন, মারেন ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের শেষ ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে তোলে ২৪৭ রান।

বাংলাদেশের হয়ে শুরুটা দারুণ করেছিলেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য এবং ইনোসেন্ট কাইয়াকে ৪ রানে ফেরান। পরে নাহিদ রানা ফিরিয়ে দেন ক্রেইগ আরভিনকে (৯)।

মেহেদী হাসান মিরাজ ওয়েসলি মাধেভেরেকে (১৫) আউট করে জিম্বাবুয়েকে ৬৬/৪-এ নামিয়ে আনেন। এরপর কারান ও সিকান্দার রাজা পঞ্চম উইকেটে ৬৮ রান যোগ করেন। রাজা ৩৩ রান করে আউট হন। মিরাজ ও রিশাদ হোসেন আরও একটি করে উইকেট নিলেও শেষ জুটির ঝড়ে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।

জবাবে শুরুতেই সৌম্য সরকার (৫) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৯) ফিরে গেলে ৩৮ রানেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তানজিদ ও হৃদয়ের ৮৪ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফেরায়। তানজিদের বিদায়ের পর হৃদয় ও সোহান চতুর্থ উইকেটে আরও ৪৭ রান যোগ করেন। কিন্তু হৃদয়ের আউটের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের হয়ে এনগারাভা নেন ৩ উইকেট। ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্স শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

প্রথম ওয়ানডেতেও ২৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন শুধুই নিয়মরক্ষার লড়াই।

Related Articles

Latest Posts