ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি হার, ক্ষুব্ধ আইয়ার

জফরা আর্চার ও জশ টংয়ের গতির সামনে দাঁড়াতেই পারল না ভারত। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের পেস জুটির তোপে মাত্র ৭৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ পেয়েছে সফরকারীরা। ১২৫ রানের এই বিধ্বংসী পরাজয়ের পর নিজের দলের পারফরম্যান্সকে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার।

বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড তোলে ৭ উইকেটে ২০১ রান। জবাবে মাত্র ১১.৫ ওভারে ৭৬ রানে অলআউট হয়ে যায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। এর ফলে চার ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার ছিল ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানে। ট্রেন্ট ব্রিজে সেই রেকর্ডও ভেঙে যায়।

ম্যাচ শেষে আইয়ার বলেন, ‘এটা ছিল জঘন্য। এর চেয়ে ভালো কোনো শব্দ আমার জানা নেই। এত বড় ব্যবধানে হার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই উইকেটে হার্ড লেংথে বল করলে বোলাররা সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু আমরা সেটা ঠিকভাবে করতে পারিনি। রান তাড়া করার সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে হয়, কিন্তু আমাদের বাস্তবায়ন ছিল খুবই খারাপ।’

২০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধস নামে ভারতের ব্যাটিংয়ে। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করা আর্চার ও টং নতুন বলে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। আর্চার ৩ উইকেট নেন ২৯ রানে, আর টং ক্যারিয়ারসেরা ৪ উইকেট শিকার করেন ২৮ রানে।

১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীকে ৯০ মাইল গতির বাউন্সারে চাপে ফেলেন আর্চার। যদিও পরের বলেই গালির ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের সাহসের পরিচয় দেন এই কিশোর। কিন্তু এরপর আর ভারতের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

অভিষেক শর্মা, সূর্যবংশী, ইশান কিষান, শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল দ্রুত ফিরলে ৫ ওভারের মধ্যেই ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ভারত। পরে উইল জ্যাকস, আদিল রশিদ ও টংয়ের আঘাতে দ্রুত গুটিয়ে যায় পুরো ইনিংস। ভারতের ইনিংস কেবলমাত্র তাদের সর্বনিম্ন টি-টোয়েন্টি স্কোর ৭৪ রানকে অতিক্রম করতে পেরেছে।

এর আগে ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডকে ভালো শুরু এনে দেন জস বাটলার (৩৬)। এরপর ফিল সল্ট ৩৬ বলে ৭০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে অপরাজিত ৪১ রান করে দলকে ২০০-এর গণ্ডি পার করান স্যাম কারান।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক সল্টের প্রশংসা করে বলেন, ‘সল্ট অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছে। এমন কঠিন উইকেটে ২০০ রান করা ছিল দারুণ অর্জন। লক্ষ্য ছিল স্টাম্পে বল রাখা এবং মাঝে মাঝে বাউন্সার ব্যবহার করা। পরিকল্পনাটা যতটা সহজ শোনায়, মাঠে ঠিক ততটাই কার্যকর হয়েছে।’

তবে হতাশার মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন আইয়ার, ‘এটা শক্তভাবে ফিরে আসার দারুণ সুযোগ। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আমরা খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি, তবে এখান থেকে শেখারও অনেক কিছু আছে।’

আগামী বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে হবে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টি-টোয়েন্টি। সেই ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত করবে ইংল্যান্ড।

Related Articles

Latest Posts