‘মনে হচ্ছে আমরা যেন ফাইনাল জিতেছি’

তর্কসাপেক্ষে এবারের বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচটা ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো। গ্যালারিতে মেক্সিকো সমর্থকদের গর্জন, দুই দলের গতিময় ফুটবল, দুইটি পেনাল্টি, লাল কার্ড, নিশ্চিত গোল বাঁচানো- কী ছিল না এই ম্যাচে! বিশ্বকাপ ইতিহাসের ক্লাসিক ম্যাচের তালিকায় নিশ্চিতভাবে জায়গা করে নেবে এই ম্যাচ। শুধু সমর্থকরা নন, মহাকাব্যিক এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসে আবেগাপ্লুত হয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও। ম্যাচ শেষে অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছেন, এই ম্যাচ ফাইনাল জেতার সমান আনন্দ দিয়েছে তাকে। 

অ্যাজটেকার উচ্চতাজনিত চ্যালেঞ্জ তো ছিলই, এই মাঠে গত ১৩ বছরে কোনো ম্যাচ হারেনি মেক্সিকো। টুর্নামেন্টেও চার ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছিল সহ-আয়োজকেরা। সাথে যে মানের ফুটবল উপহার দিয়েছে দুই দল, সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় টুখেল বলেছেন, ‘আমার কাছে এটাকে কোনোভাবেই রাউন্ড অব সিক্সটিন এর ম্যাচ মনে হচ্ছিল না। এমনকি এখনো মনে হচ্ছে না। বরং মনে হচ্ছে আমরা ফাইনাল ম্যাচ বা ওই পর্যায়ের কোনো ম্যাচ জিতেছি’। 

জারেল কোয়ানসা সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় স্টপেজ টাইম সহ প্রায় ৪৫ মিনিট দশজন নিয়ে খেলতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। একে তো একজন খেলোয়াড় কম, তার উপর মেক্সিকোর মুহুর্মুহু আক্রমণ ম্যাচটাকে চূড়ান্ত কঠিন করে তুলেছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু হ্যারি কেইনদের দৃঢ়তায় ঠিকই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। 

এমন ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন কোচ টুখেল। জার্মান এই কোচ বলছেন, তার খেলোয়াড়দের ‘নায়কোচিত’ পারফরম্যান্সই অ্যাজটেকায় ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে এনেছে, ‘এটি একটি বীরের মতো পারফরম্যান্স। ফলাফলটাও বীরোচিত। আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। গত দুই দিনে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে তা অবর্ণনীয়। এই ম্যাচ আমার জন্য বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। বিশেষ করে যেসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের, সেটিই এই জয়কে আরও বিশেষ বানিয়েছে’।

টুখেল বলছেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তি না থাকলে এই ম্যাচ জিতে আসা সম্ভব হতো না, ‘কোনো দলের মধ্যে যদি সাহস ও নিজেদের প্রতি বিশ্বাস থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমার এই দল। নিজেদের ইচ্ছাশক্তির জোরে তারা এই ম্যাচ জিতেছে। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ঐতিহাসিক এক স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ম্যাচ জিতেছি আমরা। আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে আজকের ম্যাচে। ৪০-৫০ মিনিট দশজন নিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলা, তাও আবার এই শক্তিশালী মেক্সিকো দলের বিপক্ষে, আমি খুব খুশি’। 

দলের এই হার না মানা মানসিকতায় ভীষণ গর্বিত বলেও জানিয়েছেন টুখেল, ‘আমরা টুর্নামেন্টের এমন এক পর্যায়ে আছি, যখন আপনাকে কোনো না কোনোভাবে জয়ের উপায় খুঁজে নিতে হবে। আমরা সেটা পূর্ণ সাহস ও চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে করতে পেরেছি। আমি দলের এই মানসিকতায় ভীষণ গর্বিত। আমাদের জন্য বিশেষ এক রাত এটা’। 

এই অ্যাজটেকার সাথেই জড়িয়ে আছে ইংল্যান্ডের জন্য বিভীষিকাময় এক ইতিহাস। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই অমর সেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করেছিলেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। টুখেল বলছেন, আজকের এই জয় তাদেরকে শান্তি দেবে, ‘এই মাঠের সাথে আমাদের খুব করুণ ইতিহাস জড়ানো আছে। আজকের এই ফলাফল আমাদের মানসিকভাবে শান্তি দেবে’। 

 

 

Related Articles

Latest Posts