কার্বন নিঃসরণ কমানো ও দেশের ‘কার্বন ক্রেডিট’ বাড়ানোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন তিনি।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
কার্বন ক্রেডিট কী
কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ রক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা। এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট দেওয়া হয়।
গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে এই বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাকে কার্বন ট্রেডিং বলা হয়। এতে সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের সীমা ঠিক করে দেয়। কেউ এই সীমার চেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করলে তাকে বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়।
অন্যদিকে যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমায়, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করে। পরে তারা এসব ক্রেডিট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করতে পারে।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

