আলজেরিয়াকে অনায়াসে হারিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড

গ্রুপের তৃতীয় সেরা আট দলের একটি হয়ে রোমাঞ্চকরভাবে নকআউটে উঠলেও তেমন কিছু করতে পারল না আলজেরিয়া। আফ্রিকার দলকে দুই অর্ধের দুই গোলে অনায়াসে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল সুইজারল্যান্ড।

ভ্যানকুভারে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইসরা জিতেছে ২-০ গোলে। ম্যাচের ১০ মিনিটে ব্রিল এম্বোলো দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৪৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডান এনদয়ে। ব্যবধান হতে পারত আরও বড়। ম্যাচ পুরোটা সময়ই সুইজারল্যান্ড ছিলো নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়। দুই দলের শক্তি আর সামর্থ্যের ফারাক চোখে পড়েছে স্পষ্ট করে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে আলজেরিয়াকে চেপে ধরে সুইজারল্যান্ড। যার ফল তারা পেয়ে যায় ম্যাচের ১০ম মিনিটেই। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একক নৈপুণ্যে আলজেরিয়ার বক্সে ঢুকে পড়েন এই বিশ্বকাপের অন্যতম উদীয়মান তারকা ইয়োহান মানজাম্বি। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে বল গোললাইনের কাছ থেকে তিনি বাড়িয়ে দেন ব্রিল এম্বোলোর দিকে। ছয় গজ দূর থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠাতে কোনো ভুল করেননি এম্বোলো। এই গোলের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের হয়ে নিজের ২৬তম আন্তর্জাতিক গোলটি উদযাপন করেন এই ফরোয়ার্ড।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা ছিল আলজেরিয়ার। তবে সেই আশায় জল ঢেলে দেন ডান এনদয়ে। দ্বিতীয় হাফ শুরু হওয়ার ঠিক ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় আলজেরিয়ার ডিফেন্সের দুর্বল ক্লিয়ারেন্সের বল বক্সের লাইনেই পেয়ে যান নটিংহ্যাম ফরেস্টের এই উইঙ্গার। চমৎকার এক টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান তিনি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

দুই গোল খাওয়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আলজেরিয়া। ৫০ মিনিটে ডিফেন্ডার বেলঘালির ক্রস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন আলজেরিয়ান অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ। তবে তার ফার্স্ট-টাইম শটটি দুর্দান্তভাবে ব্লক করেন সুইস ডিফেন্ডাররা। ম্যাচের ৭১ মিনিটে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক মাহরেজকে তুলে নেন কোচ পেতকোভিচ। তবে বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নেমেও সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারেননি।

ম্যাচের ৮১ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করার অবিশ্বাস্য এক সুযোগ নষ্ট করেন ফ্যাবিয়ান রিডার। ডেন জাকারিয়ার লো-ক্রস থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন তিনি। শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে বলের পজিশন ধরে রাখে সুইসরা। অন্যদিকে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে ফাউল থ্রো করে আলজেরিয়া বুঝিয়ে দেয়, ম্যাচটি তাদের জন্য কতটা হতাশার ছিল।

এই জয়ের ফলে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিলো সুইজারল্যান্ড। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে যখনই সুইসরা প্রথম গোল করেছে, বিগত ১২ ম্যাচে তারা অপরাজিত রয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আলজেরিয়ার জয় খরা আরও দীর্ঘ হলো। ১৯৮২ সালে পশ্চিম জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের কোনো দলের সঙ্গে টানা ১০ ম্যাচে জয়হীন রইল তারা।

 

Related Articles

Latest Posts