নাটকীয়তার পর ম্যাচ জিতে দিয়েগো জোতার ২১ নম্বর জার্সিটি দুই হাতে তুলে ধরলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, পুরো পর্তুগাল দল সেই জার্সি নিয়ে করল উদযাপন। রোনালদো পরে প্রয়াত সতীর্থের জার্সি গায়ে চাপিয়ে আকাশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ধরলেন। যেন বলতে চাইলেন, ‘দিয়েগো, তোমার জন্য।’
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত রোনালদো বলেন, ‘ম্যাচের আগেই আমরা বিষয়টি জানতাম। এটি ছিল অত্যন্ত বিশেষ একটি মুহূর্ত। আমাদের দল আজ এই বিষয়টি নিয়েই কথা বলছিল; জীবনের এই কাকতালীয় ঘটনাটি সত্যিই অবিশ্বাস্য। আজকের এই পরিস্থিতি আমাকে বিস্মিত করেছে। এই জয় আমাদের কাছে অনেক বড় কিছু, শুধু আমরা ম্যাচটি জিতেছি বলে নয়, বরং যেভাবে জিতেছি সেটির কারণে। ম্যাচটি যে কঠিন হবে, তা আমরা জানতাম।’
ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনেই ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল জোতার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর। বেঁচে থাকলে এই বিশ্বকাপে তিনিও থাকতে পারতেন পর্তুগাল দলের অন্যতম ভরসা হয়ে। তবে না থেকেও যেন প্রবলভাবে থাকলেন জোতা।
আবেগঘন অবস্থায় নকআউটের প্রথম ধাপে নেমে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারায় পর্তুগাল। জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে। ইভান পেরিসিচের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রোনালদোর গোলে সমতা আনে পর্তুগিজরা, পরে গনসালো রামোসের হেডে জয় পায় শিরোপাপ্রত্যাশীরা।
এই ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন জোতা। এবার বিশ্বকাপে আসার আগে কোচ রবার্তো মার্তিনেস প্রতীকীভাবে জোতাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের একজন সম্মানসূচক সদস্য ঘোষণা করেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে জোতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন পড়ে যায় পর্তুগালের ম্যাচও, স্মরণটা তাই হয় আবেগঘন।
২০২৫ সালের ৩ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পর্তুগাল ও লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ড জোতা। মাত্র ২৮ বছর বয়সে ভাই আন্দ্রে সিলভাকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর-পশ্চিম স্পেনের একটি সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাদের বহনকারী ল্যাম্বরগিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাইরে ছিটকে পড়ে আগুনে পুড়ে যায়। সেই দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান দুই ভাই।

