আফগান সীমান্তে হামলা চালিয়ে ২৯ ‘জঙ্গি’ হত্যার দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তান সীমান্তে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে ২৯ ‘জঙ্গি’-কে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।

কর্মকর্তারা বলেন, সাম্প্রতিক  বিভিন্ন প্রাণঘাতী হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে রোববার রাতে এই হামলা চালানো হয়।

২৯ ‘জঙ্গি’-কে হত্যার দাবি করে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে জানান, পূর্ব আফগানিস্তানের তিনটি প্রদেশ—পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনারে বিমান হামলা চালিয়ে তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।

অবশ্য তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন ।

হামদুল্লাহ ফিতরাত তার এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, গত রাতে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ এসব সহিংসতার বেশিরভাগের জন্য পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদরদপ্তরে হামলার একদিন পরই এই অভিযান চালানো হলো। ওই হামলায় তিন সৈন্য নিহত হন।

ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা করে এবং অন্য একজনকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক বলে জানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান তালেবানের একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামায়াত-উল-আহরার করাচিতে ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী তারার জানান, আফগান সীমান্তে পাকিস্তান তালেবানের আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে সর্বশেষ অভিযানটি চালানো হয়েছে।

পাকিস্তান তালেবান ও আফগান তালেবান পৃথক সশস্ত্র গোষ্ঠী হলেও তারা একে অপরের মিত্র। ২০২১ সালে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে আফগান তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে।

রোববারের এই আন্তঃসীমান্ত অভিযান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সংকটে ফেলবে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সীমান্তে এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে।

যদিও চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে, তবুও কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবান সরকার তাদের মাটিতে টিটিপি সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
 

Related Articles

Latest Posts