বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিয়েছে ইকুয়েডর। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। আর ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে কুরাসাওকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ বত্রিশে ওঠার টিকিট পেয়েছে আইভরি কোস্টও।
তিন ম্যাচে একটি জয় ও একটি ড্রয়ে ইকুয়েডরের পয়েন্ট ৪। সেরা তৃতীয় হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে তারা সবার উপরে অবস্থান করছে। অন্য দলগুলো ভালো করলেও সেরা আট থেকে বের হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তাদের। তিন ম্যাচে দুটি জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘ই’ থেকে রানার্সআপ হয়েছে আইভরি কোস্ট। সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানিরও।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইকুয়েডরের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। খেলা শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় ফ্লোরিয়ান ভার্টজের চমৎকার পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন লেরয় সানে। দ্রুত গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ইকুয়েডর।
তবে সেই গোলের আগে পেদ্রো ভিতের ওপর আলেক্সান্ডার পাভলোভিচের বিপজ্জনক ট্যাকলের ঘটনায় ফাউলের দাবি তুলেছিল ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা। কিন্তু রেফারি তাদের আবেদন আমলে নেননি। সেই ক্ষোভই যেন বাড়তি শক্তি জুগিয়েছিল দলটিকে।
গ্যালারিজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো হলুদ জার্সিধারী সমর্থকের উচ্ছ্বাসে ভর করে দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে ইকুয়েডর। নবম মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো নিচু শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে সমতায় ফেরান দলকে।
বিরতির পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে ইকুয়েডর। অবশেষে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। কর্নার থেকে আসা বলের জন্য দ্রুততম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে গনসালো প্লাতা নয়্যারের আগে বল স্পর্শ করেন এবং জালে পাঠিয়ে দেন। সেই গোলেই স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হয় উন্মাতাল উদযাপন।
শেষদিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। তবে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখায়। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স ও ব্লকে তারা জয়ের ব্যবধান ধরে রাখে।
জার্মানি আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছিল। ফলে তাদের খেলায় কিছুটা আত্মতুষ্টির ছাপ দেখা গেছে। অন্যদিকে ইকুয়েডরের সামনে ছিল বাঁচা-মরার লড়াই, আর সেই চাপই যেন তাদের সেরা ফুটবল বের করে এনেছে।
অপর ম্যাচে নিকোলাস পেপের জোড়া গোলে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে দাপট দেখায় আইভরি কোস্ট। ম্যাচের শুরুতে কুরাসাও রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেন পেপে। রক্ষণভাগের দুর্বল ক্লিয়ারেন্সের পর বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। গোলটির অ্যাসিস্ট করেন দিয়োমান্দে।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে অসাধারণ এক গোল উপহার দেন পেপে। মাঝমাঠ থেকে ইব্রাহিম সাঙ্গারের চমৎকার থ্রু পাস ধরে কুরাসাও রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে। দৃষ্টিনন্দন এই গোলের পর আইভরি কোস্টের সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গ্যালারি।

