নাইজেরিয়ায় ৪ যমজের অভিনব বিয়ে

মঞ্চে একই ধরনের সাদা পোশাক পরিহিত দুই ‘বউ’। তাদের সঙ্গে ম্যাচিং করে বানানো স্যুট-টাই পরিহিত দুই ‘জামাই’। তাদের নামও এক। শুধু পদবী ভিন্ন। ঘটনাটি নাইজেরিয়ার। 

আজ রোববার বার্তাসংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ইবাদান শহরের একটি গির্জায় জমজ বোন তাইও আদেদিরান ও কেহিন্দে আদেদিরানকে বিয়ের আসরে নিয়ে আসেন তাদের বাবা। অল্প সময়ের মধ্যেই জমজ ভাই তাইও ওগুনতোয়ে ও কেহিন্দে ওগুনতোয়ের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। 

উপস্থিত দর্শকরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। অনেকেই স্মার্টফোন হাতে এই বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনাকে ফ্রেমে ধারণ করেন। 

গির্জার বাইরে থেকে এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন, ‘দুই জমজ ভাইয়ের স্ত্রী হতে যাচ্ছেন দুই জমজ বোন? এমনটা আমি এর আগে কখনো দেখিনি!’  

অনেকেই মত দেন, তাইয়ো ও কেহিন্দের সঙ্গে তাইও ও কেহিন্দের বিয়েকে নিখুঁত বললেও কম বলা হবে। 

বিয়ের অনুষ্ঠানের পর হাস্যোজ্জ্বল তাইও ওগুনতোয়ে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সব সময়ই একইসঙ্গে বিয়ে করতে চেয়েছি এবং পাত্রী হিসেবে দুই জমজ বোন চেয়েছি আমরা।’

‘সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় এটা সম্ভব হয়েছে। আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত’, যোগ করেন তিনি। 

উভয় জোড়া যমজের বসবাস ইবাদানে। অস্বাভাবিক হারে জমজ সন্তান জন্মের জন্য ওই অঞ্চলের সুনাম আছে। 

দুই ভাই ‘অগুনতোয়ে টুইনস’ নামে স্থানীয়দের মাঝে পরিচিত ছিলেন। 

তারা দুইজনই পর্যটন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। দুই ভাই ‘টুইনস ওয়ার্ল্ড ক্রিয়েশনস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করেন। 

পাশাপাশি, ওই অঞ্চলের যমজদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার নানা উদ্যোগের সঙ্গেও তারা জড়িত। 

বেশ কয়েক বছর আগে তাদের ভালোবাসার উপাখ্যানের শুরু। 

ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক তাদেরকে দুই জমজ বোনের বিষয়ে জানান। 

ওই অধ্যাপকের উদ্যোগে দুই জমজ ভাইয়ের সঙ্গে দুই জমজ বোনের বন্ধুত্ব হয়। 

এক পর্যায়ে সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় দুই ভাই। তবে শুরুতে সাড়া পাননি তারা। 

হাসতে হাসতে কেহিন্দে আদেদিরান বলেন, ‘আমরা তাদেরকে সরাসরি মানা করে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমরা জমজ ভাইদের সঙ্গে ডেটিং করতে আগ্রহী নই।’

এই নেতিবাচক জবাবে তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। তবে আরও বেশ কয়েক বছর পর দুই ভাই আবারও দুই বোনের কাছে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। 

এবার অবশ্য ইতিবাচক জবাব পান তারা। 

ইয়োরুবা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিতে জমজ সন্তানরা বিশেষ মর্যাদা পান। 

ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, প্রথা অনুযায়ী প্রথম ভূমিষ্ঠ হওয়া যমজের নাম তাইও ও দ্বিতীয় জনের নাম কেহিন্দে রাখার চল আছে।  

সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে যারা জমজ, তাদেরকে শিশুকাল থেকেই একই পোশাকে সাজানো হয়। 

এই ‘টুইনিং’ ধ্যান-ধারণার বড় নিদর্শন দেখা গেছে বহুল আলোচিত ওই বিয়ের অনুষ্ঠানটিতে। 
শুক্রবার বাগদানের অনুষ্ঠানে বর-কনে লাল পোশাকে হাজির হন। বিয়েতে পরেন সাদা পোশাক। 

উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও ছিল অনেক জমজ ভাই-বোন। 

দুই ভাইয়ের বন্ধু কেহিন্দে আকাঞ্জি (২৬) ও তার ভাই তাইও আকাঞ্জি এই বিয়েতে অতিথি হিসেবে অংশ নেন। কেহিন্দে আকাঞ্জি বলেন, ‘আমরাও দুই জমজ বোনকে বিয়ে করতে চাই। তবে এবারই এ ধরনের কোনো ঘটনা নিজের চোখে দেখছি।’

চার যমজের এই প্রথাগত বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিচালক বা ‘আলাগা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুপে আদুরোজা গিওয়া। 

তিনি মত দেন, আজীবন বিয়ে পড়ালেই এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। 

তিনি বলেন, ‘একই পরিবারের দুই জমজ অপর এক পরিবারের দুই যমজকে বিয়ে করছে? আমি কস্মিনকালেও এমনটি দেখিনি। এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারে আমি গর্বিত।

 বলাই বাহুল্য, এক তাইও আরেক তাইওকে বিয়ে করছে, আর এক কেহিন্দে আরেক কেহিন্দেকে বিয়ে করছে—এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিন ঘটে না।

Related Articles

Latest Posts