বিকেলে উদ্বোধন, রাতেই ফাটল

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত একটি সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে খুলে দেওয়ার পর রাতে সেতুর একটি অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা দেয়।

এ নিয়ে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বোর্ডেরহাট এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়িরবাজার পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক সংস্কার এবং ৪টি সেতু নির্মাণের প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সড়ক সংস্কার ও সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

স্থানীয় জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বোর্ডেরহাট এলাকার সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং শনিবার বিকেলে সেটি যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অপর ৩টি সেতুও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। 

বোর্ডেরহাট এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শনিবার বিকেলে সেতুটি খুলে দেওয়ার পর রাতেই ফাটল দেখা দেয়। নির্মাণকাজে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি না হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে।

তারা প্রকল্পের বাকি অবকাঠামোগুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক ও সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে এই প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ফাটলটি ধীরে ধীরে আরও বড় হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার গোলাম মাওলাকে ফোন করা হলে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সড়ক ও সেতুর বিষয়ে যা জানার, এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।’ এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

যোগাযোগ করা হলে হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, ‘মূল সেতুতে কোনো ফাটল দেখা দেয়নি। সেতুর প্রোটেকশন স্ট্রাকচারের একটি অংশে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। মাটি ভরাটের চাপের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং ঠিকাদারকে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে 
এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এ পর্যায়ে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের দায়িত্ব ঠিকাদারের।’

জানতে চাইলে লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজন হলে সেতু ও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। পুরো প্রকল্পটি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

Related Articles

Latest Posts