নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিতে একজন নিহত হন। এছাড়া দুজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক (২০) দড়িগাঁও পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে ছিলেন আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা। আজ সকালে স্পিডবোটে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে ঢুকে নাজিমের অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। পরে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন নাজিম উদ্দিনের অনুসারী অনিক। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক অনিককে মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) ও অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। তাদের ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সীকে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা দ্য ডেইল স্টারকে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে।
‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, বলেন তিনি।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ ডেইলি স্টারকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরি নিরাপত্তা ভেস্ট পরে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিতে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। তিনি নাজিমের অনুসারী ছিলেন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন।

