দিনক্ষণ নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া না গেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের সংঘাত নিরসনে আজ রোববারই চুক্তিটি সই হতে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, চুক্তিটি সই হলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে।
চুক্তি প্রক্রিয়ায় অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও জানায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা বর্তমানে ইলেকট্রনিক সই নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই সময়সীমা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন, চুক্তি সইয়ের সঠিক দিনক্ষণ জানতে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে; তবে এটি রোববার হচ্ছে না।
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে তারা সেখানে গিয়ে নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করবেন এবং পরে তা ধ্বংস করা হবে।
গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে বলছে, তাদের এই কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা সন্নিকটে। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত অবসানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরাগচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, চুক্তির শর্তাবলির মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা চুক্তির কিছু বিবরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে পূরণ করে, তবেই তারা অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে লেবানন হয়তো এই চুক্তির অংশ হবে না, তবে ইরান এ বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে কয়েকবার চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যায়ে গিয়ে তা আর সফল হয়নি। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।
গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

