২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারাল বাংলাদেশ

২৮৫ রান তাড়ায় ১৫৬ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের জয় ছিল সময়ের ব্যাপার। সেই সময় যেন আর ফুরাতেই চাইল না। শেষ উইকেটে হারের ব্যবধান কমানো একটা জুটি পেলেন ক্যামেরন গ্রিন-অ্যাডাম জাম্পা। এরপর প্রতিকূল আবহাওয়ায় দীর্ঘ এক ঘন্টা অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা শেষ করে ডিএলএস মেথডে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডেতে হারানোর আনন্দে ভাসল বাংলাদেশ।

সাড়ে তিন বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে তিনশর কাছাকাছি পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মিরপুরের মাঠে যথেষ্ট বড় পুঁজি নিয়ে শুরুতেই জ্বলে ওঠেন পেসাররা। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানের পর গতির ঝড় তোলেন নাহিদ রানা। ব্যাটিং হিরো মোসাদ্দেক বল হাতেও রাখেন ভূমিকা। বাংলাদেশের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে ধসে যায় অজিদের ইনিংস। ম্যাচ ছিল পুরোপুরি একপেশে।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার প্রথম ওয়ানডেতে ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশ জিতেছে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে। আগে ব্যাট করে মোসাদ্দেকের ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানে ভর করে ২৮৪ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৪২.২ ওভারে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলে অজিরা।

এর আগে সেই ২০০৫ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের স্মরণীয় ইনিংসে ভর করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ওয়ানডেতে হারিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই ২১ বছরে অবশ্য দুই দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়েছে কেবল দুটি, এর বাইরে আইসিসি আসরে বিভিন্ন সময় দেখা হলেও ফল সব সময় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই ছিল।

এবার অবশ্য জেতার সম্ভাবনা ছিল আগে থেকেই। একে তো ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ, এর মধ্যে এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়া তাদের সেরা কয়েকজন তারকাকে ছাড়াই খেলছে।

২৮৪ রানের পুঁজি নিয়ে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টের বেলস উড়িয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের ফুল লেংথের বল পায়ে লাগিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মারনাশ লাবুশানে। রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ।

২৮৫ রান তাড়ায় ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। কুপার কনলির সঙ্গে একটা জুটি গড়ে উঠছিল তার। নাহিদ রানা বল করতে এলে তাকে চাবুকের মতো মারেন দুই চার।

আলগা বল দিয়ে হতাশায় তেতে থাকা নাহিদ শোধ তোলেন দারুণভাবে। বাড়তি গতির বল দারুণ লেংথে ফেলে ইংলিসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান তিনি। অজি অধিনায়ককে আউট করে আগ্রাসী মন্তব্য করায় কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। সেটা বড় হয়নি যদিও। তবে ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে যায় সফরকারী দল।

বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে কনলিকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন অ্যালেক্স কেয়ারি। দুজনের জুটিতে ৫৫ বলে যোগ হয় ৪০ রান। এরপর মোসাদ্দেককে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে থামেন কনলি।

কেয়ারি পরে ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়েও ক্যারি করতে থাকেন তার ইনিংস। অজি ব্যাটারদের মধ্যে তাকেই মনে হচ্ছিল সবচেয়ে গোছানো, পরিকল্পনা করে আগাচ্ছিলেন তিনি। স্পিনারদের সামাল দেন শান্ত মাথায়।

তবে ফিফটির কাছে গিয়ে আর পারেননি বাঁহাতি কিপার-ব্যাটার। নাহিদের নতুন স্পেলে থামতে হয় তাকে। গতিময় পেসারের অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এসে করা ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়েন ৪৭ করা কেয়ারি।

তার বিদায়ের পর গ্রিন দাঁড়িয়ে দেখেন বাকিদের আসা-যাওয়া। মোসাদ্দেক নেন আরেকটি, নাহিদ পেসের গোলায় ছাঁটতে থাকেন লোয়ার অর্ডার। অস্ট্রেলিয়াকে সর্বশেষ ওয়ানডেতে হারানোর সময় নাহিদের বয়স ছিল কেবল ৩ বছর। এবার তিনি অজিদের বিপক্ষে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে নেন ৪ উইকেট।

১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর ব্যবধান কমাতে থাকেন গ্রিন-জাম্পা। ৪৩তম ওভারে প্রতিকূল আবহাওয়ায় খেলা বন্ধের আগ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৩৫ রান করে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন তারা। তবে ম্যাচের ফল তখন অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, সেই জুটির ম্যাচে কোনো প্রভাব ছিল না।

সকালে টস হেরে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে এগোনো বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ পাইয়ে দেন মোসাদ্দেক। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে ভীষণ প্রয়োজনে খেলেন আগ্রাসী ইনিংস, শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে দলকে নিয়ে যান নিরাপদ জায়গায়।

 

Related Articles

Latest Posts