স্টার্টআপ বাংলাদেশের তহবিল ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ

দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসির (বিএসআইসি) তহবিল ধীরে ধীরে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী স্টার্টআপে এ পর্যন্ত প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, স্টার্টআপ বাংলাদেশের মাধ্যমে মোট ৫৫টি স্টার্টআপে বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে অনুমোদন পাওয়া এসব স্টার্টআপের মধ্যে ১৯টি বিভিন্ন পর্যায়ে বাদ পড়ে যায়। ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ধরা পড়া এবং বিনিয়োগের শর্তাবলি নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেগুলোতে বিনিয়োগ করা হয়নি।

বিনিয়োগ পাওয়া স্টার্টআপগুলোর মধ্যে রয়েছে—চালডাল লিমিটেড, টেন মিনিট স্কুল লিমিটেড, সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড, ট্যুর বুকিং বাংলাদেশ লিমিটেড (শেয়ারট্রিপ), আইফার্মার লিমিটেড, সিলভার ওয়াটার টেকনোলজিস লিমিটেড (পিকাবু), ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস লিমিটেড, সোয়াপ বিডি লিমিটেড, কেয়ার নিউট্রিশন লিমিটেড, ট্রাক লাগবে লিমিটেড, স্টেলার ডিজিটাল লিমিটেড (বঙ্গ), পাঠাও লিমিটেড এবং শিখো টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেডসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

মন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। এর মাধ্যমে ৭ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ও বিক্রি গড়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেড়েছে।

তিনি জানান, পোর্টফোলিওভুক্ত কোম্পানিগুলো সরকারকে ১৮০ কোটির বেশি টাকা কর রাজস্ব দিয়েছে, যা স্টার্টআপ বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগের প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ।

মন্ত্রী আরও বলেন, এসব স্টার্টআপ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন চালু এবং পরবর্তী ধাপের দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সংগ্রহে সফল হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে লাভজনক ও টেকসই ব্যবসায়িক মডেলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ঋণ দিতে পারে না। সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপগুলোকে ইকুইটি ও ইকুইটি-সংযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে সহায়তা করাই এর মূল দায়িত্ব।

স্টার্টআপ খাতে বিদ্যমান অর্থায়ন ঘাটতি দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি বিশেষায়িত তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে স্টার্টআপ বাংলাদেশ সম্প্রতি প্রায় ৪০০ কোটি টাকার একটি তহবিল এবং ৩০০ কোটি টাকার একটি কো-ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। অভিজ্ঞ ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে স্টার্টআপ অর্থায়নের পরিধি বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

Related Articles

Latest Posts