তাইওয়ানের জলসীমায় চীনের অভিযান, জবাবে জাহাজ মোতায়েন তাইপের

তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীনের অভিযানের জবাবে নিজেদের জাহাজ মোতায়েন করেছে দেশটির কোস্টগার্ড।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, চীনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

এর আগে শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জলসীমার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং এই ‘আইন প্রয়োগ অভিযান’ পরিচালনা করছে।

এএফপি জানিয়েছে, তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করা চীন ওই আলোচনাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জলসীমার ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে।

তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, চীনা জাহাজগুলোর গতিবিধি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপযুক্ত জবাব দিতে প্রয়োজনীয় নৌযান মোতায়েন করা হয়েছে।

তাইপের দাবি, তারা চীনের শিয়ামেন বন্দর থেকে চারটি সরকারি জাহাজের যাত্রা শনাক্ত করেছে। জাহাজগুলো তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলসংলগ্ন সীমিত জলসীমার বাইরে অবস্থান করছিল।

নজরদারি জোরদারে কোস্টগার্ডের পাঁচটির বেশি জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানায় তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা জাহাজগুলো রোববার সংশ্লিষ্ট জলসীমায় পৌঁছানোর কথা ছিল। একইসঙ্গে তাইওয়ান জোর দিয়ে বলেছে, দ্বীপটির পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় চীনের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই।

গত মাসে টোকিও ও ম্যানিলা ঘোষণা দেয়, দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মহীসোপানের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণে তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।

শনিবার চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয় ফুজিয়ান ও গুয়াংডং প্রদেশের সামুদ্রিক পুলিশকে তাইওয়ান দ্বীপের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় ‘বিশেষ সামুদ্রিক ট্রাফিক আইন প্রয়োগ অভিযান’ পরিচালনার নির্দেশ দেয় বলে জানায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।

তবে অভিযানের মেয়াদ, বর্তমান অবস্থা কিংবা সামুদ্রিক পুলিশ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সিনহুয়া।

বার্তা সংস্থাটি জানায়, তাইওয়ানের নিকটবর্তী জলসীমায় জাপান ও ফিলিপাইনের একতরফাভাবে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ আলোচনা শুরুর ঘোষণার বিরুদ্ধে এই অভিযান ছিল ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’।

এদিকে গত বুধবার তাইওয়ান বলেছে, জাপান-ফিলিপাইনের আলোচনার বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গেও পরামর্শ করা উচিত।

চীনের সামুদ্রিক ভূখণ্ড দাবিকে ঘিরে অভিন্ন উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান ও ফিলিপাইন আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পূর্ব চীন সাগরে ভূখণ্ড ও অর্থনৈতিক বিরোধ নিয়ে জাপান ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। সেখানে দুই দেশের কোস্টগার্ডের জাহাজ প্রায়ই মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।

অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রবালপ্রাচীর ও দ্বীপগুলোতে ফিলিপাইনের প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড জাহাজ মোতায়েন করছে বেইজিং, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার তাইওয়ানের কোস্টগার্ড আরও জানায়, দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত প্রাতাস দ্বীপের আশপাশের জলসীমায় একটি চীনা জরিপ জাহাজকে একটি কোস্টগার্ড জাহাজের সঙ্গে একযোগে কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে।

তাইওয়ানের দাবি, চীনের কোস্টগার্ড ও জরিপ জাহাজকে সমন্বিতভাবে তাইওয়ানকে উসকানি দিতে দেখা যাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।

প্রাতাস দ্বীপ বর্তমানে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বীপটি এবং দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ অংশের ওপরও সার্বভৌমত্ব দাবি করে চীন।

Related Articles

Latest Posts