ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ থেকে আটক ৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) বিক্ষোভে শত শত শিক্ষার্থী ও তরুণ অংশ নিয়েছেন। এসময় সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে ছয়জনকে দিল্লি পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনভিত্তিক এই আন্দোলনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে আসেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিমান যখন দিল্লিতে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল এটাই হয়তো আমার স্বাধীনতার শেষ মুহূর্ত। এই উদ্দেশ্যে আমি আমার স্বাধীনতা বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে কারাবাসের ভয়ে আপস করেছেন, নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এই দেশের ছাত্র-যুবসমাজ বিকিয়ে যায়নি।’

তার এ বক্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালিতে ফেটে পড়ে বলেও জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ছিলেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পরীক্ষার্থী এবং তরুণ পেশাজীবী। অনেককে তেলাপোকার মুখোশ পরে এবং হাতে ফুল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কয়েকজন অভিভাবকও সন্তানদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকও বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি বলেন, দীপকেকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি ছয় সপ্তাহের অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

বিক্ষোভকারীরা এনইইটি ও সিবিএসই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, কারিগরি ত্রুটি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তিচ্ছুক ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী উৎকর্ষ রাজ এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সরকারের জবাবদিহি চাই। এই দেশে কীভাবে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্ত প্রবেশপথ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।

They said cockroaches will never come on the ground… pic.twitter.com/awz1GdoKVq

এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এনসিপি (এসপি) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার। তিনি বলেন, ‘তরুণদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রতিফলন।’

অন্যদিকে শিবসেনার (ইউবিটি) সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত তরুণদের কণ্ঠস্বর সরকারের শোনা উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করা উচিত নয়।’

এই বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) কেরালা রাজ্য সম্পাদক বিনয় বিশ্বম অভিযোগ করেছেন, যন্তর-মন্তরের কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে দলের জাতীয় সম্পাদক অ্যানি রাজা, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেনের (এনএফআইডব্লিউ) সাধারণ সম্পাদক নিশা সিধু এবং অন্য নেতারা আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে বিনয় বিশ্বম বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সিজেপি কর্মীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে ওই নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ‘বিস্ময়কর’ ও ‘নিন্দনীয়’।

তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষা কেলেঙ্কারির অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণ ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আরএসএসের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Latest Posts