বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর পর দিঘির একমাত্র কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে মাজার এলাকার নিরাপত্তাও জোরদার করা হবে।
জরুরি বৈঠকের পর জেলা প্রশাসক বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বুধবার খুলনা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে এই উদ্ধার ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বিশেষজ্ঞরা প্রথমে কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর এটি কীভাবে ও কখন ধরা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় মাজারের দিঘিতে গোসল করার সময় ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশু কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারীদের গোসলের ঘাটে শিশুটি যখন গোসল করছিল, তখন কুমিরটি তার পা কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সারারাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গতকাল ভোরে দিঘি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

