সামনে ঠাসা সূচি, একের পর এক খেলা। তার আগে ঈদের ছুটিটা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ছিলো নিজেদের চাঙ্গা করার সুযোগ। পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার বেশির ভাগ তারকাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে ছুটি শেষ, এবার ওয়ানডে ক্রিকেটে মন দেওয়ার পালা। আগামী ৯ জুন থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে আগামী ৬ জুন থেকেই ক্যাম্পে নেমে পড়ছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।
৬ জুন থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলেও তার আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ব্যস্ততা আছে। মূলত ডিপিএলের কারণেই এই ক্যাম্প কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ। দেশের বাইরে ছুটি কাটিয়ে ইতিমধ্যে ফিরে এসেছেন লিটন দাসের মতো তারকারা। অনুশীলন শুরু হওয়ার আগে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, চোটের কারণে বাদ পড়া তানজিম সাকিব ছাড়া বাকি সব ক্রিকেটারকেই এই সিরিজে পাওয়া যাবে।
২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের হিসাব থাকায় এই ওয়ানডে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত শনিবার রাওয়ালপিন্ডিতে স্পিন উইকেটের সুবিধা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে জিতেছে পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশও টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জিতে দারুণ ছন্দে আছে। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট কেমন উইকেট চাইবে তা দেখার বিষয়।
চলমান পাকিস্তান সিরিজে না খেললেও বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়া দলে যোগ দিচ্ছেন ট্রাভিস হেড। তবে অজি স্কোয়াডে অভিজ্ঞ মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্স না থাকায় বাংলাদেশ পেস বোলিংয়ে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।
অবশ্য উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে আগাম কথা বলতে রাজি হননি প্রধান নির্বাচক। অস্ট্রেলিয়ার শক্তি নিয়ে বেশি চিন্তা করাটা কাজের কথা হবে না বলেই মনে করেন তিনি।
হাবিবুলের মতে কয়েকজন বড় তারকা না এলেও অস্ট্রেলিয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে, ‘পরের বিশ্বকাপটি ওয়ানডে সংস্করণের। সব সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ, তবে অস্ট্রেলিয়া কঠিন দল এবং তারা বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে।’
‘অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের দ্বিতীয় সারির দলও পাঠায়, তাও তারা ভালো খেলবে। তাই স্টার্ক বা কামিন্স নেই—এসব ভেবে লাভ নেই, কারণ বাকি বোলাররাও বেশ ভালো। তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কে আসছে আর কে আসছে না, তা নিয়ে আমাদের ভেবে লাভ নেই। যেমন ধরেন, ট্রাভিস হেড আসা বা না আসায় আমাদের পরিকল্পনায় কোনো বদল আসছে না।’
নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক জয়ের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে টাইগাররা নিজেদের শক্তির জায়গাতেই ভরসা রাখবে। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের কথা মনে করলে দেখা যায়, ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পেছনে উইকেট থেকে স্পিনাররা বেশ সাহায্য পেয়েছিলেন।
তবে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও এখন দারুণ করছে। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানার মতো বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের পরীক্ষা নিতে মুখিয়ে থাকবেন। নাহিদ রানা তার নতুন ক্লাব মোহামেডানের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে আগামী ৬ জুন জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি টাইগারদের স্পিন বিভাগও বেশ শক্তিশালী।
বাশার বলেন, ‘আমাদের রিশাদ হোসেন আছে, মেহেদী মিরাজও খুব ভালো করছে। পেস আর স্পিন মিলিয়ে আমাদের বোলিং আক্রমণ বেশ চমৎকার।’
বোলিংয়ে এই ভারসাম্যের পর, ছুটি কাটিয়ে ব্যাটাররাও যেন দ্রুত ফর্মে ফিরতে পারেন—এটাই এখন দলের চাওয়া। আগামী ৫ জুন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রধান নির্বাচকের সহজ কথা, ‘আমরা শুধু ভালো ক্রিকেট খেলায় মনোযোগ দিতে চাই।’

