ভেন্যু জটিলতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থগিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী

ভেন্যুর অনুমতি প্রত্যাহার ও প্রশাসনিক অসহযোগিতার কথা জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটির নির্ধারিত প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা ছিল। 

তবে আয়োজন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধিতা শুরু হলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শুক্রবার গভীর রাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’ তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণেও নির্ধারিত প্রদর্শনী আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। 

আয়োজকরা আরও জানান, পরবর্তীতে নতুন ভেন্যু ও তারিখ নির্ধারণ করে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হবে।

আয়োজক সংগঠনের সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার বলেন, গত ২৫ মে পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়। পরে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসরুল্লাহ মুয়াজ তার ফেসবুক আইডিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর প্রচারণামূলক পোস্টারের ওপর লাল ক্রস চিহ্ন দেওয়া একটি ছবি শেয়ার করেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আলেম-ওলামার শহর এবং শহরের ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। পোস্টে তিনি প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপও কামনা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরে মন্তব্য করবেন।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন। 

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো অনুমতি দেননি। তার ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনের প্রশ্নই ওঠে না।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উপদেষ্টা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল আজবীন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

 

Related Articles

Latest Posts