কোরবানির কারণে চাহিদা কম থাকায় কমেছে সবজির দাম

কোরবানির ঈদ এলেই রাজধানীর বাজারে বদলে যায় কেনাকাটার চিত্র। গরু, খাশির মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কমে যায় সবজি ও মাছের বিক্রি। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের সময় ঢাকার বিভিন্ন বাজারে কমেছে সবজির দাম।

শুক্রবার মিরপুর-১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও ইব্রাহীমপুর এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজির দাম এখন কম। বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে।

বর্তমানে পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। বরবটি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দল ও ঝিঙা ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। লেবুর দামও হালিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে, যা ঈদের আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। পেঁপের দাম বেশি হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শেওড়াপাড়ার সবজি বিক্রেতা আক্কাস আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কোরবানির ঈদে সবসময়ই সবজির দাম কম থাকে। মানুষ দুই-তিন দিন মাংস খাওয়ার পর আবার সবজি কিনবে। বাজারে সরবরাহ আছে, কিন্তু চাহিদা কম।

তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন বাজার বন্ধ ছিল। আজ দোকান খুলেছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই আবার দাম বাড়তে পারে।

ইব্রাহীমপুরের সবজি বিক্রেতা করা রাকিব মিয়া বলেন, মাল কম আনছি, কিন্তু বিক্রি নাই। ঈদের আগে যেখানে ১০০ টাকার বিক্রি হতো, এখন হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার।

তিনি জানান, আলু ও পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টির কারণেও আগে সবজির দাম কমেছিল, এখন ঈদের কারণে বাজারে ক্রেতা, বিক্রেতা ও পণ্য সবই কমে গেছে।

ক্রেতারাও বলছেন, ঈদের সময় কয়েক দিনের জন্য সবজির দাম কমে যায়।

ইব্রাহীমপুরের বাসিন্দা নূরজাহান বেগম বলেন, কম দামে বরবটি আর করলা কিনেছি। দাম আসলে কয়েক দিনের জন্যই কমে। ঈদের পর কী হবে জানিনা।

তিনি বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। কিছু মাংস প্রতিবেশীর কাছ থেকে পেয়েছি। আগামীকালও থাকবে। তারপর ডাল-ভাত আর সবজি রান্না করতে হবে। মাছও কিনব।

কাজীপাড়ার অটোরিকশাচালক হামিদ মিয়া বলেন, বাড়িওয়ালা গোশত দিয়েছিল। রাতে ৩০ টাকায় লাউ কিনেছি, যা সাধারণত ৫০-৬০ টাকা লাগে। কাঁচামরিচও নিয়েছি। সকালে মাছ কিনব।

তবে দুয়েকদিনের মধ্যেই সবজির দাম আবারও স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিক্রেতারা।

Related Articles

Latest Posts