লিওনেল মেসি ৩৮ বছর পেরিয়েও কেন প্রতিপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম, সেটাই যেন আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ডের স্বীকারোক্তি—মেসি মাঠে কখন কী করবেন, তা আগে থেকে অনুমান করা অসম্ভব। আর এই ‘মেসি ভীতি’র কারণেই আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে অন্যতম ফেবারিট মানছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
সম্প্রতি ‘কাজেটিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসন্ন বিশ্বকাপে ফেবারিট দল ও লিওনেল মেসিকে নিয়ে নিজের খোলামেলা ভাবনার কথা জানান ভিনিসিয়ুস।
লাতিন আমেরিকার ফুটবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ চিরন্তন হলেও, আলবিসেলেস্তেদের শক্তি আর সাম্প্রতিক ছন্দকে মাঠের বাইরে আলাদা সমীহ জানাতে ভোলেননি ভিনিসিয়ুস। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ফেবারিটের তালিকায় রাখার পেছনে তিনি মূলত দুটি কারণ দেখছেন—দলের আত্মবিশ্বাস এবং লিওনেল মেসির উপস্থিতি।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি ফেবারিটের তালিকায় আর্জেন্টিনাকেও রাখব। কারণ তারা শেষবারের চ্যাম্পিয়ন, তাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে এবং সবচেয়ে বড় কথা, তাদের দলে মেসি আছে।’
আসন্ন বিশ্বকাপে স্কালোনির দল শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাঠে। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার মিশেলে আর্জেন্টিনা দারুণ এক ভারসাম্যপূর্ণ দল হলেও ভিনিসিয়ুসের পুরো মনোযোগ কেড়ে নিয়েছেন তাদের কিংবদন্তি অধিনায়ক। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারের মুখোমুখি হওয়া যেকোনো ডিফেন্ডারের জন্যই যে চরম এক পরীক্ষা, সেটিও মনে করিয়ে দেন তিনি।
মেসির জাদুকরী ফুটবল নিয়ে ব্রাজিলের এই প্রধান আক্রমণভাগের ভরসা বলেন, ‘সে সবসময়ই মাঠে নতুন কিছু নিয়ে আসে। সে আসলে কখন কী করে বসবে, তা আপনি কখনোই আগে থেকে কল্পনাও করতে পারবেন না।’
প্রতিপক্ষকে নিয়ে সমীহ থাকলেও ভিনিসিয়ুসের মূল লক্ষ্য অবশ্য ২০০২ সালের পর ব্রাজিলের দীর্ঘ ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটানো। এবার সেলেসাওদের ডাগআউটে আছেন কার্লো আনচেলত্তি, যার অধীনে রিয়াল মাদ্রিদে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভিনিসিয়ুস। কোচের সঙ্গে চেনা রসায়নকে জাতীয় দলেও টেনে এনে ব্রাজিলকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দিতে মরিয়া এই উইঙ্গার।
২০২৬ বিশ্বকাপে আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশন শুরু করবে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি (১৯ জুন) ও স্কটল্যান্ড (২৪ জুন)।
অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে গ্রুপ ‘জে’তে থাকা আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন জর্ডানের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

