বিক্রির জন্য আনা গরু জবাই করে বেঁচে পুঁজি তোলার চেষ্টা

ঈদুল আজহার একদিন আগে লাভের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ১০টি গরু নিয়ে রাজধানীর কচুক্ষেত পশুর হাটে আসেন সাভারের হেমায়েতপুরের মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ। 

আজ বুধবার কচুক্ষেত হাটের পাশে তাকে দেখা যায় কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করতে। 

দ্য ডেইলি স্টারকে হানিফ বলেন, ‘হাটে বিক্রির জন্য ১০টা গরু এনেছিলাম। ৭টা বিক্রি করেছি এক লাখ টাকা লসে (ক্ষতিতে)। বাকিগুলোর দাম প্রতিটিতে ৩০-৪০ হাজার টাকা কম ‍উঠছে। বাধ্য হয়ে জবাই করে ৭৮০ টাকা কেজি দরে ‍গরুর মাংস বিক্রি করছি। তাতে যদি পুঁজিটা তুলতে পারি।’

আজ সারাদিন প্রায় একই দৃশ্য দেখা গেছে কচুক্ষেতসহ শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি ও কমলাপুর পশুর হাটে। 

এখানকার পশু ব্যবসায়ীরা জানান, গতকাল রাত ২টার পর থেকেই গরুর দাম একেবারে পড়তির দিকে। ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরুর দাম উঠছে ৬০-৭০ হাজার টাকা। সকালের ঝুম বৃষ্টিতে ক্রেতা সমাগম মোটেও হয়নি। বিক্রেতারা মনে করেছিলেন দুপুর-বিকেল নাগাদ ক্রেতা বাড়বে। কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা। 

৯টি গরু নিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে আকমাল হোসেন এসেছিলেন কমলাপুর হাটে। গতকাল রাতে ৩টি গরু বিক্রি করেছেন নামমাত্র লাভে। বাকি গরুগুলোর কেনা দামও ওঠেনি আজ সারাদিন। 

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আকমাল বলেন, ‘এখন কান্নাকাটি করা ছাড়া আর উপায় নাই। কেনা দাম পেলেও গরুগুলো বিক্রি করে দিতাম। এখন সেটিও পারছি না।’

তারই মতো মৌসুমি পশু ব্যবসায়ী পাবনার সুরুজ ব্যাপারী। গতকাল সকালে ১০টি গরু নিয়ে রওনা দিয়ে জ্যামের কারণে হাটে এসে পৌঁছান রাতে।  

তিনি বলেন, ‘রাতে ২টি গরু লসে বিক্রি করে দিয়েছি। এক লাখ টাকায় কিনে আনা গরুর দাম উঠছে ৫০-৬০ হাজার টাকা। আমিতো খামারি নই, যে ফেরত নিয়ে গিয়ে এগুলো লালন-পালন করব। এখন আর কোনো উপায় দেখছি না।’

এতে অবশ্য নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কারো কারো মুখে ফুটেছে হাসি।

মান্ডা এলাকার বাসিন্দা শাকিল হোসেন। গত দুই-তিন ঈদে সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি দিতে পারেননি। এবার প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগে কোরবানির গরু কিনতে কমলাপুর হাটে এসেছিলেন গতরাতে। 

৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু পছন্দ হয়েছিল। আজ সেই গরুটিই তিনি কিনেছেন ৪৫ হাজার টাকায়। 

ডেইলি স্টারকে শাকিল বলেন, ‘ভেবেছিলেন এবার ভাগে কোরবানি দেবো। তবে সস্তায় গরু কিনতে পারায় একাই কোরবানি দিতে মনস্থির করেছি। যে গরুটি রাতে ৭৫ হাজার টাকা চেয়েছিল, সেটিই আজ ৪৫ হাজার টাকায় কিনলাম। বাচ্চারা খুব খুশি হয়েছে।’

Related Articles

Latest Posts