পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র তিন দিন। এরই মধ্যে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের প্রায় ৯০ শতাংশ পোশাক কারখানা ছুটি হয়ে গেছে। ফলে আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে দুই মহাসড়ক ও রেল জংশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
শিল্প পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ জানায়, গতকাল সোমবার থেকে ধাপে ধাপে ছুটি শুরু হলেও আজ মঙ্গলবার অধিকাংশ কারখানা একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দুপুরের পর থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং জয়দেবপুর রেল জংশনে যাত্রীদের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
যাত্রীদের এই চাপের মধ্যেই সকাল সাড়ে ১১টার পর শুরু হয় টানা বৃষ্টি। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে, যা ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আজ দুপুরে জয়দেবপুর রেল জংশনে সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে নারী-শিশুসহ শত শত যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় আছেন। ব্যাগ-বস্তা ও কোলের শিশু নিয়ে অনেকেই ট্রেনের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন, কেউ কেউ আবার বৃষ্টিতে ভিজে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁওগামী যাত্রী আমেনা খাতুন দুই শিশুসন্তান নিয়ে প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, দিনাজপুর হয়ে ঠাকুরগাঁও যাব। কখন ট্রেন আসবে জানি না। আজ সব ট্রেনই দেরিতে চলছে। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জয়দেবপুর চৌরাস্তায়। ইপিলিয়ন পোশাক কারখানা শ্রমিক মাসুদা বেগম বলেন, আমাদের ইপিলিয়ন পোশাক কারখানা গতকাল ছুটি হয়েছে। আজ পাবনা যাব। কিন্তু মহাসড়কে অনেক ভিড়, ব্যাগ-বস্তা নিয়ে চলাচল করতে খুব সমস্যা হচ্ছে।
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় কিছুটা যানজট ছিল। পরে বৃষ্টির কারণে এবং ভোগড়া এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনের গতি আরও ধীর হয়ে যায়। তবে দুপুরের পর সড়কের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের কোনো যানজট হয়নি।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল সোমবার গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার আরও ৫০ শতাংশের মতো কারখানা ছুটি হয়েছে। বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীতে ২ হাজার ৬৭৪টি কারখানা সচল রয়েছে। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বাড়ির পথে রওনা হওয়ায় সড়ক ও স্টেশনে যাত্রীদের চাপ তৈরি হয়েছে।

