শ্রমিক-শিল্প বাঁচাতে ছাঁটাই বন্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত, শ্রম আইন ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রম বিধি প্রণয়নের দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির উদ্যোগে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং শ্রমিক।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীকালে গত দুই বছরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পোশাক শ্রমিক ও শিল্প নানামুখী সংকটের মধ্যে দিয়ে গেছে। এরপরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এই খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ ছাড়া, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং তাদের অংশীদার মালিকদের অপতৎপরতার নানা প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রমিকের জীবন ও শ্রমখাত।
তারা বলেন, অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে। জ্বালানি অর্থনীতির প্রাণ। এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার প্রশ্ন এবং শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ। তাই শ্রমিক-শিল্প স্বার্থে নিরবিচ্ছিন্নভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে বিভিন্ন কারখানায় চলছে শ্রমিক ছাঁটাই। শতাধিক কারখানা বন্ধের পর আবার নতুন শতাধিক কারখানা তৈরি হলেও শ্রমিকদের অনেকেই এখনো কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা।
এমন পরিস্থিতিতে নানা অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে মালিকদের নির্দেশনা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তারা বলেন, কর্মহারা শ্রমিকদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিলে শ্রমিক ও শ্রমখাত উভয়ই বিপদগ্রস্ত হবে এবং শ্রমিকদের বিপদকে ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদী শক্তিরা গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নস্যাৎের চেষ্টা চালাবে। এ বিষয়ে শ্রমিক-মালিক-সরকার তিনপক্ষকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
তাসলিমা আখতার বলেন, ‘শ্রম আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। আইনে যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন শ্রমিকের অধিকারকে শক্তিশালী করেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে আইনটি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে। শ্রমিকের সংগঠন করার অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বৈষম্য ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’

